প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হালকা বাতাস বইছে। সেই বাতাসের মধ্যে এক নারী অল্প অল্প হাঁটছেন, তার আঁচল উড়ছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’।
গত বৃহস্পতিবার, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল এই ভিডিও শেয়ার করেন।
তার এই ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অংশের সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফলে ট্রল ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন তিনি। এবার এর প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা একই গানে রিলস তৈরি করে ফেসবুকে পোস্ট করছেন।
গত দুই দিন ধরে ফেসবুকে ডিফরেন্ট টাচের এই সিগনেচার গানটি ব্যবহার করে সারা দেশের শিক্ষিকারা রিলস পোস্ট করেছেন। এসব ভিডিওতে তাদের কর্মস্থল, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ কিংবা ব্যক্তিগত পরিবেশে হাঁটতে দেখা যাচ্ছে।
তারা তাদের পোস্টে লিখছেন, শিক্ষকতার পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অনুভূতি ও সৃজনশীল প্রকাশের স্বাধীনতাও সম্মান পাওয়ার দাবি রাখে।
মজার ব্যাপার হলো, এই শ্রাবণ মাসের মতোই ১৯৮৭ সালে আরেক শ্রাবণে খুলনায় বসে গানটি লিখেছিলেন গীতিকার ও সুরকার আশরাফ বাবু। এই রোমান্টিক গানটি এত বছরের পর, আবার এই শ্রাবণে হয়ে গেল প্রতিবাদের ভাষা!
সামিয়া শিকদার নামের এক শিক্ষিকা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বিউটি রাণী পাল ম্যাডামকে হেনস্তার চেষ্টা সফল হয়নি। আজ প্রতিটি সাহসী শিক্ষকই একেকজন বিউটি রাণী পাল। আমরা মাথা নত করব না, সম্মান নিয়ে এগিয়ে যাব।’
পোস্টটিতে তিনি #BeautyRaniPal, #RespectTeachers, #TeacherUnity, #StandWithTeachers, #EducationMatters এবং #TeachersAreNationBuilders হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন।
কুমিল্লার শিক্ষিকা লায়লা নূর পিংকি একই গানটি ব্যবহার করে ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে’ গানের ভিডিওর কারণে দেশবাসী অন্তত কিছুটা হলেও লায়লা, মামুন আর চাচাদের কটাক্ষপূর্ণ ভিডিও থেকে মুক্তি পেয়েছে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষকরা কিছুটা হলেও ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।’
তিনি আরও লেখেন, ‘ডিজিটাল এই প্রতিবাদ প্রমাণ করে দিয়েছে, যেখানেই অন্যায় হবে, সেখানে শিক্ষকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানাবে। আমাদের এই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। সমালোচনা করুন, তবে সেটা হতে হবে যৌক্তিক। আজাইরা সমালোচনার ফল তো দেখলেন? হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো সব শিক্ষকরা বেরিয়ে এলেন। যেসব শিক্ষকরা কোন সময় লজ্জায় ভিডিও দিতেন না, তাদের প্রতিভাও বিকশিত হয়েছে। যাক, দিনশেষে আমরা সবাই শিক্ষক। আগামীকাল থেকে আমাদের আবার শ্রেণিকক্ষে দেখা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন