প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কাগজে-কলমে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন ও সংস্কার, কিন্তু সরেজমিনে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো কাজ নেই! এর পাশাপাশি ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৪.৫ থেকে ৫ শতাংশ কমিশন দাবি, ফাইল আটকে রাখা, ঢাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাটসহ অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
৭.৫ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব ঘিরে ধোঁয়াশা
দুদকে দেওয়া অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিসিসির অ্যানেক্স ভবন, নগর ভবন, যান্ত্রিক ও পানি শাখা এবং কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংস্কারের নামে প্রায় সাড় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে। তবে অভিযোগকারীর দাবি, সরেজমিনে এসব স্থাপনা পরিদর্শনের পর এত বড় অঙ্কের সংস্কারকাজের কোনো দৃশ্যমান অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
কাগজে থাকা এই অর্থ বাস্তবে কোন খাতে ব্যয় হয়েছে—তার সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা মিলছে না। বিসিসির হিসাব শাখা জানিয়েছে, প্রকৌশল বিভাগ থেকে দেওয়া ব্যয়ের হিসাবের ভিত্তিতেই বাজেটে এই অর্থ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবিরের বরাত দিয়ে অভিযোগে বলা হয়, সংস্কারের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ অন্য কোনো খাতেও ব্যয় হয়ে থাকতে পারে। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার ব্যয় নিয়ে এমন অস্পষ্টতা জালিয়াতির সন্দেহ আরও বাড়াচ্ছে।
৫% কমিশন বাণিজ্য ও ফাইল আটকানোর অভিযোগ
দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে দাবি করা হয়, প্রকৌশল বিভাগের ফাইল অনুমোদন ও বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৪.৫ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করেন প্রধান প্রকৌশলী। এমনকি পূর্বের বকেয়া থাকা ১ থেকে ১.৫ কোটি টাকা বিল পরিশোধের ক্ষেত্রেও অর্থ দাবি করা হয়। কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল আটকে রেখে বিল ছাড়ে বিলম্ব ঘটানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকায় ফ্ল্যাট ও বিপুল অবৈধ সম্পদ!
সরকারি অর্থ অপব্যবহারের পাশাপাশি প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকে পেশ করা তথ্যে জানানো হয়, বরিশালে একটি ৬ তলা ভবন, ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং বিভিন্ন ব্যবসায় তাঁর বিপুল অর্থ বিনিয়োগ রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর ঘোষিত আয় ও সম্পদের মধ্যে সঙ্গতি রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও বিতর্কিত পুনর্বহাল
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নিজের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক কাজে সময় দিতে তিনি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ঢাকায় অবস্থান করেন। হাজিরা খাতা, মুভমেন্ট রেজিস্টার এবং দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনা করলেই অফিসে তাঁর নিয়মিত অনুপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যাবে।
এ ছাড়া তাঁর চাকরি জীবনের অতীত ইতিহাস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। জানা যায়, ২০২০ সালে তাঁকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে পদে পুনর্বহাল করা হয়। কিন্তু কী প্রক্রিয়ায় তাঁকে প্রধান প্রকৌশলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ চলতি দায়িত্বে আনা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টরা।
তদন্তের দিকে নজর
সংস্কারের কার্যাদেশ, কাজের পরিমাপ বই (এমবি), বিল-ভাউচার এবং কাজ শেষে ছাড়পত্র নথিভিত্তিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি উঠেছে। দুদকের তদন্তেই বেরিয়ে আসবে সাড়ে ৭ কোটি টাকার প্রকৃত গন্তব্য।
(উল্লেখ্য, দুদকে জমা দেওয়া এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো কোনো স্বাধীন আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে আইনিভাবে দোষী সাব্যস্ত করার সুযোগ নেই। এই বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য ও দাপ্তরিক নথি পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।)
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন