ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কোন পথে যাচ্ছে?


ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কোন পথে যাচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের অর্থনীতির সাফল্য নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার শাসনামলে মার্কিন নাগরিকদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেয়েছে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প বারবার উল্লেখ করেছেন, "বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সবচেয়ে গতিশীল।"

গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে, ট্রাম্পের ব্যাপকভিত্তিক ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক আরোপের পর মার্কিন অর্থনীতির অবস্থা যে খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল, বাস্তবে পরিস্থিতি তার চেয়ে ভালো দেখা যাচ্ছে।

তবে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে দেখা যাচ্ছে, এসব আমদানি শুল্ক এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের প্রভাবে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব ভোগ করতে হচ্ছে অধিকাংশ মার্কিন পরিবারকে।

আরও পড়ুন: ডেমোক্র্যাটশাসিত শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের হুমকি ট্রাম্পের

অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ মার্কিন অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে। তবে এ খাতে বিনিয়োগের গতি থেমে গেলে দেশটির অর্থনীতিও বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে।

তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের কাছে দেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি কেমন? ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কি সত্যিই জি-৭ জোটের অন্য দেশগুলোর তুলনায় দ্রুত এগোচ্ছে?

জি-৭-এর অন্য দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতি বেশ ভালো গতিতে এগোচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, মার্কিন জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদন, যা দিয়ে অর্থনীতিবিদেরা একটি দেশের অর্থনীতির আকার পরিমাপ করেন, বর্তমানে বার্ষিক ২ দশমিক ২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে, অর্থাৎ ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের ঠিক আগের সময় থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ। এই সময়ে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর সংগঠন জি-৭-এর অন্য যেকোনো সদস্য দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধির হার বেশি।

আরও পড়ুন: উত্তর প্রদেশে দীপাবলি ও হোলিতে বিনামূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার দেওয়ার ঘোষণা

এদিকে, দেশটির ভোটারদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। কারণ, এই খাতে বিনিয়োগের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়টি জড়িত। উপরিউক্ত চিত্রে মার্কিন অর্থনীতিতে এআই ডেটা সেন্টারগুলোতে বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

ট্রাম্পের শুল্ক ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি?

নিচের চিত্রে ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার কীভাবে বেড়েছে, তা তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অনেক মার্কিন ভোটার সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন। কারণ, করোনা মহামারির পর পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সৃষ্ট ভোগান্তির জন্য তারা বাইডেনকেই দায়ী করেছিলেন।

তবে ২০২২ সালে বাইডেনের শাসনামলে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ৯ শতাংশে পৌঁছেছিল। বর্তমান হার সেই তুলনায় অনেক কম। অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর যেসব নতুন শুল্ক আরোপ করেছেন, সেগুলো না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার আরো কম থাকত।

আরও পড়ুন: ওহাইওর প্রথম নারী গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হলেন ডেমোক্র্যাট অ্যামি অ্যাকটন

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে তেল ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় ইরান যুদ্ধের প্রভাবেও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও, যা মূল্যস্ফীতি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ৫২ ডলারে পৌঁছায়, যা ছিল রেকর্ড। ডিজেল কৃষিকাজ ও শিল্পকারখানায় বহুল ব্যবহৃত একটি জ্বালানি। ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে গরুর মাংস ও কফির মতো কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে এ সময়ে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে।

বাড়ছে পরিবারের আয়, তবে সবাই সমান সুবিধা পাচ্ছে না

এদিকে, ট্রাম্পের শাসনামলেও মার্কিন পরিবারগুলোর গড় আয় বাড়ছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে হিসাব করলে, ২০২৫ সালে দেশটির মধ্যম আয় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

আরও পড়ুন: ৩৮ বছর পর টেক্সাসে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক জয়

তবে ‘ইনস্টিটিউট অন ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ইকোনমিক পলিসি’ (আইটিইপি) নামের একটি থিংক ট্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালে মধ্যম আয়ের ২০ শতাংশ পরিবার আগের তুলনায় গড়ে প্রায় ১ হাজার ৭০০ ডলার কম সুবিধা পাচ্ছে। একইভাবে, সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবার পাচ্ছে প্রায় ৭৫০ ডলার কম সুবিধা।

অন্যদিকে, প্রধানত ট্রাম্পের কর ছাড়ের নীতির কারণে সবচেয়ে ধনী ১ শতাংশ মানুষ অন্যান্য পরিস্থিতির তুলনায় গড়ে ১২ হাজার ৫৬০ ডলার বেশি সুবিধা পাচ্ছেন বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

মার্কিন পরিবারগুলোর বিভিন্ন আয়স্তরের ওপর শুল্কের প্রভাব নিয়ে আইটিইপির এই প্রাক্কলন মূলত ট্যাক্স ফাউন্ডেশন নামের আরেকটি থিংক ট্যাংকের হিসাবের সঙ্গে মিলে যায়।

প্রত্যাশার তুলনায় কম কর্মসংস্থান সৃষ্টি

আরও পড়ুন: স্পেনে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার জেরে পদত্যাগ করলেন পরিবহণমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে

ট্রাম্প বলেছিলেন, তার শুল্কনীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানে ব্যাপক উল্লম্ফন ঘটবে। তার যুক্তি ছিল, শুল্ক এড়াতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে নতুন কারখানা গড়ে তুলবে। এর ফলে দেশে বিপুলসংখ্যক নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। তবে বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে মার্কিন অর্থনীতিতে প্রতি মাসে গড়ে ৩৪ হাজার নতুন চাকরি যুক্ত হয়েছে। অথচ বাইডেনের প্রেসিডেন্সির শেষ বছরে প্রতি মাসে গড়ে ১ লাখ ২২ হাজার নতুন চাকরি তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ, বাইডেনের শেষ বছরের তুলনায় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি অনেকটাই কম।

বাড়ছে সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতি

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। এর পেছনে তার উল্লেখযোগ্য কর ছাড়ের নীতিও কিছুটা দায়ী। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে মার্কিন ফেডারেল সরকারের বাজেট ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, ওই সময়ে কর থেকে সরকারের আয় এবং সরকারি ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান ছিল ২ ট্রিলিয়ন ডলার। এই ঘাটতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশের সমান। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, ২০৩০ সালের মধ্যে এই বাজেট ঘাটতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এআরবি

আরও পড়ুন: দক্ষিণ ক্যারোলিনায় সিনেট নির্বাচনে জয়ী হলেন ডেমোক্র্যাট অ্যানি অ্যান্ড্রুজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থী, শিশু ও সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় জুলাইয়ে আত্মত্যাগ: খোকন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪২ পি.এম


শিক্ষার্থী, শিশু ও সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় জুলাইয়ে আত্মত্যাগ: খোকন

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন মন্তব্য করেছেন, যারা সংবিধানকে ছুড়ে ফেলার চিন্তা করেন, তারা কখনোই বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি।

তিনি মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সংবিধান দিবস উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।

খোকন বলেন, "সংবিধান রক্ষার জন্যই জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থী, শিশু ও সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছেন, অনেকে হয়েছেন পঙ্গু। কিন্তু যারা সংবিধান ছুড়ে ফেলার চিন্তা করেন, তারা কোনোদিনই বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি।"

অনুষ্ঠানে সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানের চার মূলনীতি হলো জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণই রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক।

তিনি আরও বলেন, মানুষের অধিকার রক্ষার কাজ এখনো শেষ হয়নি। স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, সুষ্ঠু নির্বাচন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে হবে।

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি আয়োজিত সভায় আইনবিদ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক ও সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কারফিউ জারি করে হত্যাকাণ্ডের মূল কারিগর সালমান-আনিসুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪২ পি.এম


কারফিউ জারি করে হত্যাকাণ্ডের মূল কারিগর সালমান-আনিসুল

জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর মিরপুর অঞ্চলে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এসএম সায়েম। আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কাজ করেন তিনি। তাদের মধ্যে কয়েকজন শহীদ হন। একজনের পেটে গুলি লেগে ভুঁড়ি বেরিয়ে যায়, আরেকজনের মগজ বের হয়ে ঝুলে থাকে এবং আরেকজনের চোখে গুলি লাগলে অন্ধ হয়ে যান। মূলত সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের প্ররোচনায় শেখ হাসিনার নির্দেশে কারফিউ জারি হলে এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সায়েমের জবানবন্দিতে এসব বিষয় উঠে আসে।

জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ত্রয়োদশ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।

জবানবন্দিতে সায়েম বলেন, "আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকার সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৪ জুন হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত এলে আমরা এর প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করি। ৩০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করি। সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় ৬ জুলাই বাংলা ব্লকেড এবং ৯ জুলাই এক দফা কর্মসূচি ঘোষণা করি।"

তিনি উল্লেখ করেন, "আন্দোলন শুরুর পর থেকেই গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের হুমকি দেওয়া হতে থাকে। ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের নাতিপুতি ও রাজাকারের বাচ্চা’ বলে বিদ্রূপাত্মক বক্তব্যের পর সারা দেশের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা ‘তুমি কে, আমি কে, রাজাকার-রাজাকার’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। ১৫ জুলাইও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। পরদিন ১৬ জুলাই আমি মিরপুরের সনি সিনেমা হলের সামনে বিকেল ৪টা থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিই। এ সময় পুলিশ আমাকে আটক করে ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন চালায়। পরে আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে পুলিশ আমাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।"

জবানবন্দিতে এই জুলাইযোদ্ধা বলেন, "ওই দিন রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে এবং চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ সারা দেশে ছয়জন আন্দোলনকারী শহীদ হন। এসব হত্যাকাণ্ড আমাদের আন্দোলনকে আরও বেগবান করে। পরবর্তী সময়ে সরকার কারফিউ জারি, গণগ্রেপ্তার, ইন্টারনেট বন্ধ এবং কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের আটক করে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে। ২৬ জুলাই ডিবি পুলিশ আন্দোলনের কয়েকজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ককে আটক করে। তাদের জোরপূর্বক আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাই।"

তিনি আরও বলেন, "৩০ জুলাই মার্চ ফর জাস্টিস এবং ৩১ জুলাই রিমেম্বার আওয়ার হিরোজ কর্মসূচি পালন করি। ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের সমাবেশে নাহিদ ইসলাম শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা ঘোষণা করেন। ৪ আগস্ট সারা দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক হামলা ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। ওই দিন সারা দেশে ৩০০ থেকে ৪০০ জন আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়। ৫ আগস্ট মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করেন। যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, গাবতলীসহ বিভিন্ন প্রবেশমুখ দিয়ে জনস্রোত ঢাকায় আসতে থাকে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলিবর্ষণ করা হয়। কিন্তু জনস্রোত থামানো যায়নি। একপর্যায়ে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যান এবং সরকারের পতন ঘটে।"

সায়েম বলেন, "আন্দোলন চলাকালে আমি বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে গেছি। তাদের মধ্যে কয়েকজন পরবর্তী সময়ে শহীদ হয়েছেন। গুলিতে কারও নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়, কারও মগজ বের হয়ে যায় এবং কারও চোখ নষ্ট হয়ে যায়। আমাকে আটক করার উদ্দেশ্যে একাধিকবার আমার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। বাড়ির একটি দেয়াল গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়। হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে যায়, আমাকে যেখানেই পাবে, সেখানেই হত্যা করবে। এসব ঘটনা ও স্মৃতি এখনো আমাকে তাড়িত করে।"

জুলাইযোদ্ধা সায়েম বলেন, "আন্দোলনে যে হত্যাকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে, তার অন্যতম ফ্যাক্টর ছিল কারফিউ জারি। কারফিউ জারি না করলে এত হত্যাকাণ্ড হয়তো হতো না। এই কারফিউ জারির মূল কারিগর হলেন সালমান এফ রহমান এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আমি হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত সবার বিচার চাই। যারা নিহত ও আহত হয়েছেন এবং স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের জন্য সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ চাই। একই সঙ্গে এই ট্রাইব্যুনালে যারা সাক্ষ্য দিচ্ছি, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মস্কোর মুসলিম ভ্রাতৃত্বের উষ্ণতা ও মানবিক সম্পর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৩ পি.এম


মস্কোর মুসলিম ভ্রাতৃত্বের উষ্ণতা ও মানবিক সম্পর্ক

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে বসবাসরত মধ্য এশিয়ার মুসলিম অভিবাসী ও স্থানীয় মুসলমানদের মধ্যে একটি বিশেষ মানবিক সম্পর্ক বিদ্যমান। কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান ও তুর্কমেনিস্তান থেকে আসা অভিবাসীদের পাশাপাশি রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলমানদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক লেখককে বুঝিয়েছে—মানুষের প্রকৃত মূল্য সম্পদ দিয়ে নয়, বরং নৈতিকতা, মানবিকতা, বিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে নির্ধারিত হয়।

মস্কোতে অবস্থানকালে লেখকের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেশার সুযোগ হয়েছিল। তার অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অনেক রুশ নাগরিক বিদেশিদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংকীর্ণতা ও শীতল মনোভাবও প্রকাশ পায়। তবে এই অভিজ্ঞতার বিপরীতে, স্থানীয় মুসলমান এবং ইসলাম গ্রহণ করা রুশ নাগরিকদের কাছ থেকে লেখক পেয়েছেন আন্তরিকতা ও ভালোবাসা।

রাশিয়ার তাতারস্তান, দাগেস্তান, চেচনিয়া, ককেশাস, ইঙ্গুশেতিয়া ও চুভাশিয়ার মুসলমানদের সঙ্গে লেখকের পরিচয় ঘটে। বিশেষভাবে তাতারস্তানের মুসলমানদের ভূমিকা লেখক উল্লেখ করেছেন। মস্কোতে মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও সমাবেশের ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। এসব স্থানে কোরআন ও হাদিস শেখার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি স্বল্প খরচে ধর্মীয় শিক্ষা এবং জুমার নামাজ আদায়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।

মস্কোর সবচেয়ে বড় ও পরিচিত মসজিদটি লেখকের কাছে মুসলমানদের মিলনস্থল হয়ে উঠেছিল। সেখানে হিজাব পরা একজন মুসলিম নারী হিসেবে তাকে দেখে অনেকেই প্রথমে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে অভ্যর্থনা জানাতেন। ধর্মীয় বিশ্বাস ও আন্তরিকতার বন্ধনে অচেনা মানুষগুলো ধীরে ধীরে লেখকের আপনজন হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে গড়ে ওঠে পরিবারের মতো সম্পর্ক।

বিশেষ করে মধ্য এশিয়ার অভিবাসী মুসলমানদের সঙ্গে পরিচয় লেখকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলেছে। তাদের একটি বড় অংশ উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তান থেকে মস্কোসহ রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে কাজের সন্ধানে আসেন। তাদের জীবনযাপন, সংগ্রাম এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও অন্যের প্রতি সহমর্মিতা লেখককে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

সংগ্রামময় অভিবাসী জীবন

মস্কোতে এসব অভিবাসীদের জীবন মোটেও সহজ নয়। উপার্জনের জন্য তাদের নানা ধরনের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। কর্মস্থলে রুশ পুলিশের নিয়মিত অভিযান, দীর্ঘ ও কঠিন কর্মঘণ্টা, অনিরাপদ পরিবেশ এবং শারীরিকভাবে কষ্টসাধ্য কাজ তাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। তাদের অনেকেই এমন পেশায় নিয়োজিত, যেগুলোকে ‘থ্রি-ডি’ বা নোংরা, কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এসব কাজে দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত উন্নতির সুযোগও সীমিত।

এছাড়া রয়েছে পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব। মস্কোতে নিজের জীবন চালানোর পাশাপাশি দেশে থাকা স্বজনদের জন্যও তাদের নিয়মিত অর্থ পাঠাতে হয়। আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ রাশিয়ার তীব্র শীত। তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়ার দেশ থেকে আসা এসব মানুষের জন্য মস্কোর কঠোর শীতের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কঠিন।

এত প্রতিকূলতার মধ্যেও লেখক তাদের মধ্যে যে উদারতা ও আন্তরিকতা দেখেছেন, তা তাকে মুগ্ধ করেছে। নিজেদের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তারা তাকে খাবার দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন, স্নেহ দেখিয়েছেন এবং বিপদের সময় পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিজেদের জীবনেই নানা সংকট থাকা সত্ত্বেও তারা অন্যের প্রতি সহমর্মিতা দেখাতে কার্পণ্য করেননি।

মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে পবিত্র কোরআনের সূরা আনফালের ৬৩ নম্বর আয়াতের কথাও লেখক স্মরণ করেছেন। আয়াতটিতে বলা হয়েছে, মানুষের সব সম্পদ ব্যয় করেও হৃদয়ের মধ্যে এমন ভালোবাসা ও ঐক্য তৈরি করা সম্ভব নয়; আল্লাহই মানুষের অন্তরগুলোকে একত্র করেন। মস্কোর মুসলিম অভিবাসী ও স্থানীয় মুসলমানদের আচরণে লেখক এই শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন দেখেছেন।

এ ছাড়া মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মুমিনদের পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভালোবাসাকে একটি মানবদেহের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, শরীরের একটি অঙ্গ ব্যথিত হলে পুরো শরীর জেগে ওঠে এবং জ্বরে আক্রান্ত হয়। মুসলমানদের একে অপরের প্রতি দায়িত্ব ও সহানুভূতির বিষয়টি বোঝাতে এই উপমা দেওয়া হয়েছে।

মস্কোর মুসলমানেরা নিজেদের জীবনসংগ্রামের মধ্যেও এই ভ্রাতৃত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন। তাদের কাছে লেখক নিজেকে বহিরাগত বা অপরিচিত মনে করেননি; বরং পেয়েছেন আপনজনের মতো গ্রহণযোগ্যতা। তাদের ভালোবাসা তাকে অনুভব করিয়েছে—তিনি তাদের কাছে কাঙ্ক্ষিত, স্বাগত ও ভালোবাসার মানুষ।

মানুষের মর্যাদা নির্ধারণের মাপকাঠি তার অর্থ-সম্পদ নয়। বরং তার চরিত্র, ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতা, মানবিকতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধই প্রকৃত পরিচয়। মস্কোর কঠিন বাস্তবতায় মধ্য এশিয়ার মুসলিম অভিবাসী ও স্থানীয় মুসলমানদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও সহযোগিতা লেখককে সেই শিক্ষাই দিয়েছে।

ইসলাম ও ঈমান মানুষের হৃদয়কে একসূত্রে বাঁধতে পারে। জীবনের নানা সংকট ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মস্কোর মুসলমানেরা তাঁদের আচরণে সেই ঐক্য, উদারতা ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন।

সূত্র: অস্ট্রেলেশিয়ান মুসলিম টাইমস (এএমইউএসটি)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি খেলাফত যুব মজলিসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৩ পি.এম


গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি খেলাফত যুব মজলিসের

বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বৃদ্ধি করে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ জাহিদুজ্জামান, সভাপতি পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল্লাহ আশরাফ এবং মাওলানা জাকির হোসাইন গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এই নিন্দা জানান।

নেতারা বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, "দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আজ চরম সংকটের মুখে।" নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে না, কিন্তু প্রতিদিন বাড়ছে সংসার চালানোর ব্যয়। এই অবস্থায় এলপিজি গ্যাসের দাম আরও ২২৩ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর নতুন অর্থনৈতিক বোঝা চাপানোর শামিল। গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধি দরিদ্র ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য "মরার ওপর খাঁড়ার ঘা" হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তারা আরও বলেন, রান্নার গ্যাস এখন আর বিলাসিতার কোনো উপকরণ নয়; এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। শহরাঞ্চলের অসংখ্য পরিবার, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এলপিজি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। গ্যাসের দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধু রান্নার খরচে সীমাবদ্ধ থাকে না; হোটেল-রেস্তোরাঁ, খাবার ও অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়ে যায়। এর চূড়ান্ত বোঝা সাধারণ জনগণকেই বহন করতে হয়।

নেতারা বলেন, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় না নিয়ে বারবার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। "জনগণ কি শুধু মূল্যবৃদ্ধির বোঝা বহন করবে, আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বিকার থাকবে?" বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পর জ্বালানির দাম বাড়িয়ে জনজীবনকে আরও বিপর্যস্ত করা দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়।

নেতারা অবিলম্বে এলপিজি গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে পূর্বের মূল্য বহাল রাখার দাবি জানান। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতের মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অযৌক্তিক মুনাফা বন্ধ করা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "জনগণের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে এমন একের পর এক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকলে জনঅসন্তোষ আরও তীব্র হবে।" জনগণের ন্যায্য স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস তা মেনে নেবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%