প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশে আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি, দক্ষ শিক্ষক সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সময়োপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্বে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক শিক্ষার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রড স্মিথ।
বৈঠকে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের সার্বিক উন্নয়ন, পাঠ্যক্রম সংস্কার, মূল্যায়ন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কেমব্রিজের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করে। তারা সরাসরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেট কোর্স, শিক্ষণ পদ্ধতি ভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং স্কুল নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনার প্রস্তাব দেয়।
কেমব্রিজের প্রতিনিধি দলটি আরও জানায় যে, তারা প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে, ইংরেজি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন ও পাঠ্যক্রম প্রণয়নে সরাসরি সহযোগিতা করতে চায়। বৈশ্বিক জ্ঞান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং শিক্ষা সংস্কারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করার কথাও উল্লেখ করেন তারা।
বৈঠকের সময় প্রতিনিধি দলটি সরকারের ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ উদ্যোগসহ শিক্ষা খাতে নেওয়া বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করে। তারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মেধা ও সম্ভাবনার ওপর আস্থা ব্যক্ত করে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা—তিনটি পর্যায়েই একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ সময়, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, শিক্ষাকে আরও বাস্তব-কর্মসংস্থানমুখী ও শিল্প খাত-সংশ্লিষ্ট করতে সরকার কাজ করছে।
তিনি শিক্ষার সঙ্গে ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। এছাড়াও দেশের নতুন শিক্ষাদর্শনে বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্বগুণ ও নাগরিক মূল্যবোধ বিকাশে সহশিক্ষা কার্যক্রমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাহ্দী আমিন বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা বোঝান।
তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আধুনিক শিক্ষণ-পদ্ধতি, দক্ষ শিক্ষক তৈরি এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে দেশের বাস্তবতায় কাজে লাগিয়ে একটি বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।
বৈঠকে উভয় পক্ষই আগামীতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন