প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গত আগস্টের শেষ দিকে নেপালের ত্রিশুলি উপত্যকায় হিমবাহ ধসে সৃষ্ট এক ভয়াবহ বন্যা সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দেয়। নদীর প্রবল স্রোতে একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তছনছ হয়ে যায়।
উক্ত বিপর্যয়ে ১৩০০-এরও বেশি প্রাণহানি ঘটে। আপার ত্রিশুলি থ্রি-এ প্রকল্পের মাটির নিচের একটি অন্ধকার সুড়ঙ্গে কবির মহারজন ও সঞ্জয় সাহ নামের দুই কর্মী আটকে পড়েন। প্রায় নয় দিন তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি, যা দেখে সবাই মনে করেন তারা মৃত।
ঘটনার দিন সকালে কাজ শুরু করার পরপরই ওপরের পর্বত থেকে বিশাল এক কাদা ও পানির স্রোত নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ভূগর্ভস্থ স্টেশনটি কাদাপানিতে ভেসে যায়।
বাঁচার তাগিদে সঞ্জয় ও কবির সুড়ঙ্গের ভেতরের দিকে একটি অপেক্ষাকৃত ছোট, ওপরের দিকে ঢালু কেবল-ডাক্ট টানেলে আশ্রয় নেন।
, সুড়ঙ্গের নির্গমন পথ থেকে মাত্র ১৬০ মিটার দূরে পানি পৌঁছাতে পারেনি। ফলে সেখানে বাতাস চলাচলের জন্য একটি ছোট স্থান বা ‘এয়ার পকেট’ তৈরি হয়, যা তাদের বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেয়।
এই এয়ার পকেট তাদের বাঁচিয়ে রেখেছিল, কিন্তু একইসঙ্গে সেটি তাদের জন্য হয়ে উঠেছিল এক প্রকার কারাগার।
চারপাশে ছিল অন্ধকার এবং থিকথিকে কাদাপানি। বেঁচে থাকার জন্য সেখানে কোনো খাবার ছিল না। তৃষ্ণা মেটাতে কবির মহারজন সেই ঘোলা কাদাপানিই পান করতেন, যেখানে তারা শুয়ে বা বসে দিন কাটাচ্ছিলেন। অন্যদিকে, মনোবল ধরে রাখতে সঞ্জয় সাহ অন্ধকারে হিন্দু মন্ত্র পাঠ করতেন। এইভাবে, তারা খাবার ছাড়াই এবং শুধু ঘোলা পানি পান করে ভয়াবহ প্রতিকূলতার মধ্যে নয়টি দিন পার করেন।
বাইরে তখন সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয় প্রকৌশলীরা তাদের খোঁজে দিনরাত কাজ করছিলেন। কাদা ও টানা বৃষ্টির কারণে সুড়ঙ্গে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। অবশেষে বিশেষ ওয়াটার জেট দিয়ে কাদা সরিয়ে এবং সুড়ঙ্গে বাতাস পাঠানোর ড্রিল করে দশম দিনে তাদের সন্ধান পাওয়া যায়। সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে একটুকরো আলো দেখে উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত হন যে অলৌকিকভাবে কেউ জীবিত আছেন।
দীর্ঘ নয় দিন পর যখন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়, তখন তাদের শরীর মারাত্মকভাবে দুর্বল ছিল। কয়েক দিনের চিকিৎসার পর তারা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও, সম্পূর্ণ অন্ধকারে মৃত্যুর মুখ থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ফিরে আসার এই ঘটনা নেপালের সেই দুর্যোগের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক ঘটনা হিসেবে রয়ে গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন