প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনায় অন্তত তিনজনের মৃত্যুর পর দেশবাসীকে শান্ত থাকার জন্য জোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ। গত মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী শাহ দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন থেকেই জনসম্মুখে তিনি খুব একটা আসেননি। তবে, বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি জাতির উদ্দেশ্যে এই প্রথম বড় ধরনের ভাষণ দেন। এক আবেগঘন বার্তায়, তিনি দেশের সকল নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার নির্দেশ দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিতিশীলতার মেঘ দূর করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।
স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ভারত সীমান্তবর্তী সুনসারি জেলার একটি গ্রামে গত রবিবার একটি হিন্দু শোভাযাত্রায় উচ্চস্বরে গান বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা টানানো নিয়ে হিন্দু এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু সদস্যের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়, যা সহিংসতার জন্ম দেয়। পুলিশ গুলি চালালে স্থানীয় বলছে, সেখানে দুজন নিহত হন। পুলিশ মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে নিশ্চিত করেছেন। এরপর, বৃহস্পতিবার পার্শ্ববর্তী সিরাহা জেলায় কারফিউ জারির পরও সহিংসতার কারণে আরও একজন তরুণের মৃত্যু ঘটে। নতুন করে সংঘাত এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে বর্তমানে সুনসারি এবং এর সংলগ্ন পুরো জেলাগুলোর জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য কঠোর কারফিউ বলবৎ রাখা হয়েছে।
পরিস্থিতির সার্বিক দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ বলেন, আমি সরকারের পক্ষ থেকে সকল সাধারণ নাগরিক, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় সম্প্রদায়, শ্রদ্ধেয় নেতৃবৃন্দ, সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের কাছে ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শন করার এবং দেশের শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি একই সাথে এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং অপরাধে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাসও ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, সহিংসতা রুখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ নজরদারিতে রয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে পুলিশ মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে জানান, আমরা মাঠপর্যায়ে কর্তব্যরত সমস্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে উচ্চ সতর্কাবস্থায় রেখেছি। জনগণের জানমাল রক্ষা করা এবং যেকোনো ধরনের সংঘাতময় পরিস্থিতি প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
উল্লেখ্য, নেপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী, কিন্তু দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠী বসবাস করে। বর্তমানে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন শান্তি ফিরিয়ে আনতে যৌথভাবে কাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন