প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে এলো নরওয়ে। ফুটবল বিশ্ব অধীর আগ্রহে ছিল, ইউরোপের এই পরাশক্তির প্রত্যাবর্তন কেমন হবে? সেই অপেক্ষার অবসান ঘটলো এক রাজকীয় ঝড়ে! আর সেই ঝড়ের কেন্দ্রে ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির ‘গোলমেশিন’ আর্লিং ব্রাউত হল্যান্ড।
ফক্সবরো স্টেডিয়ামে ‘গ্রুপ অব ডেথ’ খ্যাত ‘আই’ গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘোষণা করল নরওয়ে। ম্যাচের নায়ক অন্য কেউ নন, স্বয়ং হালান্ড; যার বিধ্বংসী জোড়া গোল এবং ক্ষিপ্রতা থমকে দিয়েছে ইরাকের মরণপণ লড়াইকে।
বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় যখন ম্যাচটি শুরু হয়, শক্তি হিসেবে নরওয়ে ছিল স্পষ্ট ফেভারিট। কিন্তু বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে অঘটনের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছিল ইরাক। তবে ম্যাচের শুরুতেই মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন নরওয়ে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। ওডেগার্ড এবং হল্যান্ডের একের পর এক আগুনের আক্রমণ ইরাকি রক্ষা প্রাচীরকে কোণঠাসা করে ফেলেছিল।
ম্যাচের ২৯ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বাঁ-প্রান্ত থেকে ডেভিড মোলার উলফের দ্রুতগতির ক্রসে চিতা বাঘের মতো পা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান হল্যান্ড। বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজের প্রথম ম্যাচেই গোল করে দলের জন্য ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই সুপারস্টার।
কিন্তু পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি এশিয়ান লায়নরা। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে দুর্দান্ত এক কাউন্টার অ্যাটাকে ফের ইরাক। আমির আল আম্মারির মাপা ক্রসে শূন্যে লাফিয়ে উঠে এক বুলেট হেড দিয়ে গোল করেন ইরাকি স্ট্রাইকার আইমেন হুসেইন। বল ডানদিকের নিচের কোণ দিয়ে জালে জড়ালে গ্যালারিতে ইরাকি সমর্থকদের উল্লাসের মাধ্যমে ১-১ সমতায় ফেরে ম্যাচ।
কিন্তু ইরাকের সেই উদ্যাপনের আয়ু ছিল মাত্র ৪ মিনিট! ৪৩ মিনিটে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে মারাত্মক ভুল করে বসেন ইরাকি গোলরক্ষক জালাল হাসান। বিদ্যুৎ গতিতে ছুটে আসা হল্যান্ডের পায়ে লেগে বল সরাসরি আছড়ে পড়ে ইরাকের জালে। মাত্র ১৪ মিনিটের ব্যবধানে ৩ গোলের এক অবিশ্বাস্য থ্রিলার দেখে দর্শকরা। প্রথমার্ধ শেষ হয় নরওয়ের ২-১ ব্যবধানের লিড নিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে ইরাক ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও, নরওয়ের সংগঠিত রক্ষণ এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে বারবার বাধার মুখে পড়ে। মাঝমাঠে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের দক্ষ পরিচালনায় ক্রমাগত আক্রমণ অব্যাহত রাখে নরওয়ে।
ম্যাচের ৭৬ মিনিটে নরওয়ের তৃতীয় গোল আসে। একটি নিখুঁত সেট-পিস থেকে পাওয়া সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দারুণ গোল করেন ডিফেন্ডার লিও স্কিরি অস্টিগার্ড। এই গোলের পর স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-১, যা কার্যত ম্যাচ থেকে ইরাককে ছিটকে দেয়। এরপর নরওয়ে আরও একটি গোল পেয়ে ম্যাচটি শেষ হয় ৪-১ ব্যবধানে।
পুরো ম্যাচে আক্রমণ, গতি এবং পরিকল্পনার দিক থেকে নরওয়ে ছিল অনেক বেশি এগিয়ে। হল্যান্ডের অবিশ্বাস্য গোলক্ষুধা, ওডেগার্ডের জাদুকরী নেতৃত্ব এবং রক্ষণভাগের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের শুরুতেই অন্য দলগুলোকে একটি শক্ত বার্তা দিয়ে রাখল নরওয়ে। অন্যদিকে, ইরাক পিছিয়ে পড়লেও লড়াকু মানসিকতা দেখালেও, শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় পরাশক্তির শক্তির সামনে টিকতে পারেনি।
পারফরম্যান্সের পর ফুটবল দুনিয়া এখন একটাই বার্তা পাচ্ছে—এই নরওয়েকে হালকাভাবে নিতে নেই!
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন