প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেছেন, ‘পাসিং ম্যান’ বা বহনকারীদের গ্রেফতার করা হলেও মাদক চোরাচালানের গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তিনি জানান, যদি মাদকের এই গডফাদারদের আইনের হাতে তুলে না দেওয়া যায়, তবে মাদক নির্মূলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন হবে।
তিনি আগামীকাল রোববার (২৮ জুন) দুপুর ১১টায় সাতক্ষীরায় বিজিপির ৩৩ ব্যাটালিয়ন সদরে জব্দ করা মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান আরও বলেন, ‘মাদক নির্মূলে সরকারের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিজিবি সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে।’
তিনি আরও জানান, ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ মাদকমুক্ত দেশ গঠনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বিজিবির প্রতিটি সদস্য সীমান্তে দিন-রাত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। মাদক একটি বহুমাত্রিক সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।’ এ সময় তিনি মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান। পরে প্রধান অতিথি বিজিবি সদস্যদের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং নিজ হাতে জব্দ মাদকদ্রব্য ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে বিজিবির বিভিন্ন অভিযানের সময় জব্দ করা বিপুল পরিমাণ মাদক ধ্বংস করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার মদ ৩ হাজার ৭৯১ বোতল, ফেনসিডিল ও সমগোত্রীয় নেশাজাতীয় মাদক ৪ হাজার ৫২৪ বোতল, ইয়াবা ৪৭ হাজার ২৭০ পিস, বিড়ি ও সিগারেট ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৬৯ পিস, গাঁজা ৩৩ দশমিক ৪ কেজি, বিভিন্ন প্রকার অবৈধ ওষুধ ৬৩ লাখ ১৩ হাজার ১২০ পিস, তামাকের গুঁড়া ৩৫ কেজি, লিকুইড সীসা ২ বোতল এবং মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত বটপাতা ১০০ কেজি।
এছাড়া অতি মূল্যবান মাদকের মধ্যে ছিল এলএসডি ৭২ দশমিক ৫০ মিলিলিটার, ক্রিস্টাল মেথ বা আইস ৮ দশমিক ৫৮৩ কেজি এবং আফিম তৈরির কেমিক্যাল ২০ বোতল।
বিজিবি সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১৬ মাসের সময় সাতক্ষীরা জেলার সদর ও কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির বিভিন্ন বর্ডার অবজারভেশন পোস্টের (বিওপি) সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ৪৮ জন আসামিসহ ১২৬ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৬ টাকা মূল্যের চোরাচালানী পণ্য জব্দ করেছেন। এর মধ্যে শুধু মাদকদ্রব্যের মূল্যই ছিল ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির খুলনা সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক, বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এবং র্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার। বক্তারা এ সময় মাদকের বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন