প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর গাবতলী বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইউনিট প্রধান (ম্যানেজার) নায়েব আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, যা দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত।
অভিযোগ অনুযায়ী, নায়েব আলীর বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি, রাজস্ব আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন সময় বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় অধিকাংশ ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিআরটিসিকে দুর্নীতিমুক্ত করতে এবং রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির সুষ্ঠু হিসাব নিরূপণের স্বার্থে, নায়েব আলীর বিরুদ্ধে পূর্বের সব বিভাগীয় মামলা ও অভিযোগ পুনঃতদন্ত করা জরুরি। ২০১৬ সালে জোয়ার সাহারা বাস ডিপোর ম্যানেজার থাকাকালে নায়েব আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আসতে থাকে, যেখানে বাস মেরামত না করেই ভাউচারের মাধ্যমে বিল উত্তোলন করা হয়।
২০১৬ সালের ১৮ মে তৎকালীন মন্ত্রীর ডিপো পরিদর্শনের সময়, অভিযোগ রয়েছে যে কয়েকটি বাস (নম্বর ৫-৭৩৯, ৫-৭৮১ ও ৫-৩৮১) অত্যন্ত নিম্নমানের এবং চলাচলের জন্য অনুপযোগী অবস্থায় পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্পোরেশনের আদেশে তিনি তখন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও সাময়িক বরখাস্ত হন, কিন্তু পরে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে, আবার কর্মস্থলে যোগদান করেন।
নায়েব আলীর কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে মতিঝিল বাস ডিপোতে ম্যানেজার (অপারেশন) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে। অভিযোগ রয়েছে, এলওসি-২ প্রকল্পের আওতায় ভারত থেকে আমদানিকৃত ৩৫টি নতুন বাস সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়ায় পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭৫ হাজার ৮৭ টাকা রাজস্ব ক্ষতির হাত থেকে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
এ সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায় ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি টাকারও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে ২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা (মামলা নং-১৭৮৫) দায়ের করা হয়।
তৎকালীন চেয়ারম্যানকে প্রভাবিত করে, তিনি প্রথমে দুই বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের শাস্তি কমিয়ে এক বছরে নামিয়ে নিতে সক্ষম হন। খুলনা বাস ডিপোর ম্যানেজার থাকাকালেও নায়েব আলীর বিরুদ্ধে অনিয়মের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর, কর্পোরেশনের একটি পত্রের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ভুল তথ্য দিয়ে ৪,৮৭১৯০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সক্ষম হন তিনি এবং কখনো কার্যকর শাস্তির মুখোমুখি হননি। বিআরটিসির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী দাবি করেন যে, বিভিন্ন সময় নায়েব আলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় অনেক অভিযোগ আলোর মুখ দেখেনি। তাদের মতে, বিআরটিসির আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে, নায়েব আলীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব বিভাগীয় মামলা, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আর্থিক অনিয়মগুলো দুদক পুনরায় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন