প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। তিনি মন্তব্য করেছেন, "দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, খাল-নালা দখল ও জলপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতার কারণেই" এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, "দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাব ও অব্যবস্থাপনার কারণে এ সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে।" এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন যে, "গতকাল অনেক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাঁশখালীর সব স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়েছে।" এর ফলে, "আজকে খুব দ্রুত পানি নেমে যাচ্ছে।" তবে, খাল দখল, জলপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে জলাবদ্ধতা আরও বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, "অতীতে প্রভাবশালীরা আইনের তোয়াক্কা না করে এসব অনিয়ম করেছেন। বর্তমান সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ করবে।" যাতে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং "ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।" প্রত্যন্ত এলাকাতেও ত্রাণ পৌঁছে দিতে কোস্টগার্ড, বিজিবি, আনসার ও অন্যান্য সরকারি সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, "পানি নেমে যাওয়ার পর দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে।" ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
নগরের জলাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, "খাল পুনরুদ্ধার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কাজ করছে।" তবে, তিনি আরও বলেন, "শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না, নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে।" বাড়ির সামনের নালা-ড্রেন পরিষ্কার রাখলে পানি সহজে খালে এবং খাল থেকে নদীতে প্রবাহিত হতে পারবে, ফলে জলাবদ্ধতাও কমে আসবে।
এর আগে বন্যা দুর্গতদের ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বয় করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংস্থার সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদত হোসেন, চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম ১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন