প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। নাজুক এই দ্বীপটির পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষার লক্ষ্যে সেন্টমার্টিনের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং অস্তিত্ব রক্ষায় মহাপরিকল্পনার বিষয়টি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম তুলে ধরেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দ্বীপে সবুজায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে শেখ ফরিদুল ইসলাম এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, 'দ্বীপের বাসিন্দাদের স্বার্থ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব-সবকিছুর সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ৮ থেকে ১০ আগস্ট দ্বীপজুড়ে ২০ হাজার চারাগাছ রোপণ করা হচ্ছে এবং প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণের কার্যক্রম চলছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, সবুজ, জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ ও টেকসই সেন্টমার্টিন তৈরী করা।'
শেখ ফরিদুল ইসলাম আরও জানান, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ-প্রতিবেশ এবং অস্তিত্ব রক্ষায় নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রধান বিবেচনা থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের মন্ত্রণালয়ের একটি মহাপরিকল্পনা রয়েছে সেন্টমার্টিন নিয়ে। দ্বীপটির পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং অস্তিত্ব নিরাপত্তার পাশাপাশি এখানকার বাসিন্দাদের স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণভাবে বিবেচনা করা হবে।'
তিনি উল্লেখ করেন, 'সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা দ্বীপের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা দীর্ঘকাল ধরে এই দ্বীপের সংরক্ষণ করেছেন এবং দ্বীপটির সঙ্গে তাদের রয়েছে গভীর মমত্ববোধ। সুতরাং, দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষা, বাসিন্দাদের স্বার্থ, দেশের স্বার্থ এবং সার্বভৌমত্বের মধ্যে সমন্বয় করে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।'
প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন, 'সেন্টমার্টিনের অস্তিত্ব ও পরিবেশ রক্ষা করা হবে যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রধান বিবেচনা। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত এবং বাস্তবতা পর্যালোচনা করেই সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।'
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, 'সেন্টমার্টিন কেবল একটি দ্বীপ নয়, এটি আমাদের দেশের ঐতিহ্য, অস্তিত্ব এবং ভালোবাসার স্থান। একটাই সেন্টমার্টিন, তাই এর প্রকৃতি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।'
তিনি আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সেন্টমার্টিনে প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হবে। এছাড়াও, উপকূলীয় পরিবেশ এবং মাটির উপযোগী প্রজাতি নির্বাচন করে এসব গাছ রোপণ করা হবে। পরবর্তীতে প্রয়োজনে ম্যানগ্রোভসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হবে।'
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, 'দ্বীপের জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং মানুষের সুস্থতা রক্ষায় বৃক্ষরোপণের এটা অপরিহার্য। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কোস্ট গার্ড, ওয়ার্ল্ড ভিশনসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সহযোগিতায় এই উদ্যোগ সফল হবে। তবে, শুধু গাছ লাগালেই চলবে না; সেন্টমার্টিনের বাসিন্দাদের এগুলো নিয়মিত পরিচর্যা এবং সংরক্ষণ করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, সবুজ, জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ এবং টেকসই সেন্টমার্টিন গড়ে তোলা।'
তিনি আরো বলেন, 'সবুজায়ন কর্মসূচির আওতায় ৮ থেকে ১০ আগস্ট দ্বীপজুড়ে ২০ হাজার চারাগাছ রোপণের কাজ শুরু হয়েছে। আম, পেয়ারা, নিম, বহেরা, হরীতকী, জারুল, কেয়া এবং নারিকেলসহ উপকূলীয় পরিবেশের উপযোগী বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে সৈকত থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণের কাজও চলছে। প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান হচ্ছে- স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য তেমন কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া যা দীর্ঘমেয়াদে দ্বীপের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।'
সেন্টমার্টিনকে শুধুমাত্র পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে নয়, দেশের ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে রক্ষার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগ এবং স্থানীয়দের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণে গড়ে উঠবে সবুজ, জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ এবং টেকসই সেন্টমার্টিন।'
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'যেকোনো সময় যদি পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া যায়, সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। সরকার কোনও ধরনের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বা অনিয়মকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না; বরং প্রশাসনের সহযোগিতায় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করছে।'
তিনি আরও বলেন, 'সেন্টমার্টিনের পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যারা এখানে বসবাস করেন, তাদের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়, যা দীর্ঘমেয়াদে দ্বীপের ক্ষতি সৃষ্টি করে। সেন্টমার্টিনের প্রাণ-প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য এবং অস্তিত্ব রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।'
এ সময় উপস্থিত ছিলেন: সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনসাধারণ, পরিবেশকর্মী এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কক্সবাজার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের সমন্বয় অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার রোনাল্ড প্রবীর চিসিক।
উল্লেখ্য, পরিবেশ সুরক্ষায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ গত ৩ বছরে দেশজুড়ে ৩২ লাখ চারা রোপণ করেছে এবং আগামী ৫ বছরে আরও ৭৫ লাখ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে এই সংস্থা সারাদেশে ১৫ লাখ এবং কক্সবাজার জেলায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৭০টি গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন