প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পরে শাহাদাত হোসেন (৮) নামে এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন পাঁচ ব্যক্তিকে স্থানীয় বাসিন্দারা আটক করে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। পুলিশ এ বিষয়ে জানাচ্ছে, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে উপজেলার চরনাছিরপুর ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদের তীরের একটি কাশবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। শাহাদাত আবদুর রশিদের ছেলে এবং সে স্থানীয় হানিফ হাজীর ডাঙ্গী কওমি মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৬ জুন) চন্দ্রপাড়া দরবারসংলগ্ন ট্রলারঘাটে মহররম উপলক্ষে আয়োজিত মেলায় ঘুরতে গিয়ে শাহাদাত নিখোঁজ হয়। পরে মাইকিংসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
দুপুরে কয়েকজন স্থানীয় লোক শাহাদাতের বোন রওশনারাকে ফোন করে জানান যে একটি কাশবনে মরদেহ পড়ে আছে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে।
মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাতে উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় লোকজন মেলায় দোলনা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনকে আটক করে মারধর করেন। পরে তাদের পুলিশ কাছে সোপর্দ করা হয়।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার দেলোয়ার বেপারী, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রিয়াজ, মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার তামিম মোল্যা, ঝিনাইদহের জিহাদ মাহমুদ এবং শাকিল ইসলাম।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শহিদ সরদার বলেন, দুপুরে একটি ফোন নম্বর থেকে ফোন করে এক ব্যক্তি নিজেকে দোলনার কর্মচারী পরিচয় দেয় এবং শিশুটির পরিবারের কাছে জানায় যে, শাহাদাত বাড়ি যেতে চাচ্ছে না। একইসঙ্গে শিশুটির অবস্থান সংক্রান্ত তথ্যও প্রদান করে।
পারিবারিক সদস্যরা ওই তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পান। কিন্তু ফোন করা ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এরপর স্থানীয় লোকজনের সন্দেহের ভিত্তিতে মেলায় কর্মরত কয়েকজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তথ্য পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) রেজওয়ান দীপু ও সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন।
ওসি আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন পাঁচজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। সেইসাথে ফোন দেওয়া ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন