প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই আহ্বানটি তিনি জানান।
সাক্ষাৎকালে প্রেসিডেন্ট বলেন, "এ দেশে সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, মুসলমানসহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে। সবার সমান অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করে একটি সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।
প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, বিগত সরকারের সৃষ্টি করা সংকট থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নৃ-গোষ্ঠী, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, দুঃখ-কষ্ট ও প্রত্যাশার বিষয়েও তিনি অবগত রয়েছেন বলে জানান।
তিনি ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফল করতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। সংরক্ষিত নারী আসনে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের অধিক হারে মনোনয়ন দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট জানান, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন বিষয় যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের একটি কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়নে সবার প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে; একা কোনো পক্ষের পক্ষে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল প্রেসিডেন্টকে আসন্ন দুর্গাপূজায় ঢাকেশ্বরী ও রমনা কালী মন্দির পূজা মন্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং উপস্থিত থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।
এ সময় প্রতিনিধি দল বিভিন্ন দাবি প্রেসিডেন্টের কাছে তুলে ধরে। জবাবে প্রেসিডেন্ট অতীতে বঞ্চিতদের এগিয়ে নিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধি দলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের উপদেষ্টা তপন চন্দ্র মজুমদার, ধর্ম বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য অ্যাডভোকেট জন গমেজ, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উপদেষ্টা সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রেসিডেন্টের সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন