১১:২৬ এম
চীন ও ভারতের মধ্যে স্থগিত থাকা বিভিন্ন কৌশলগত আলোচনা দ্রুত চালুর আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই।
তিনি বলেছেন, এই দুই দেশের বাণিজ্য, অর্থনীতি, আইন প্রয়োগ, গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরো বাড়ানো উচিত। সোমবার নয়াদিল্লিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠককালে এ কথা বলেন ওয়াং ই।
মঙ্গলবার ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, চীন ও ভারতের উচিত একে অপরকে সম্মান করা এবং সংবেদনশীল বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করা। তিনি বলেন, সীমান্ত বিরোধকে এমনভাবে সামাল দিতে হবে, যাতে তা দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।
আরও পড়ুন: রূপগঞ্জে পুলিশের কনস্টেবলের রগ কাটল মাদক কারবারিরা
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বেশিরভাগ কৌশলগত আলোচনার অচলাবস্থায় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন মন্তব্য এসেছে। এর আগে চলতি মাসে ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জু ফেইহংও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বেঙ্গালুরুতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, চীন ও ভারতের মধ্যে সরকার পর্যায়ে প্রায় ৫০টি কৌশলগত আলোচনা রয়েছে। কিন্তু এর বেশিরভাগই এখনো বন্ধ অবস্থায় আছে।
সোমবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের ফাঁকে ওয়াং ই ও অজিত ডোভালের মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগোচ্ছে বলেও মত দেন তারা। তবে বাস্তবে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া এখনো ধীরগতির। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালুর মতো বিষয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।
অনেক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত আলোচনা এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। এদিকে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠকের জন্য অজিত ডোভালের বেইজিং সফরের প্রস্তুতিও চলছে। এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এই সফরের মাধ্যমে আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ভারত সফর করবেন কি না, সে বিষয়েও কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে ওয়াং ই উল্লেখ করেন যে, চীন ও ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুটি দেশ এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি। তিনি বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ধীরে ধীরে কঠিন সময় পার করে উন্নয়নের পথে ফিরছে। ওয়াং ইর ভাষায়, চীন ও ভারত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার। এটি দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কৌশলগত সমঝোতা। তিনি বলেন, বিশ্বের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দুই দেশের উচিত দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়া এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়ানো।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে ভরাডুবির পর রুবিওর পদত্যাগের গুঞ্জন, হোয়াইট হাউস নাকচ করেছে
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ আবার শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতিও মোটামুটি শান্ত ও স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি বলেন, এই অগ্রগতি সহজে আসেনি। তাই দুই দেশের উচিত এই অর্জনগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সম্পর্ক উন্নয়নে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। ওয়াং ইর মতে, দুই দেশ একে অপরের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সহযোগিতা করতে পারে। পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নেও একসঙ্গে ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠকে ওয়াং ই বাণিজ্য, অর্থনীতি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা এবং গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতে কৌশলগত আলোচনা ও যোগাযোগ দ্রুত চালুর ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা গড়ে তুলতে হবে এবং পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে সামাজিক ও জনসমর্থনের ভিত্তি আরো শক্তিশালী করতে হবে। ব্রিকস প্রসঙ্গে ওয়াং ই বলেন, চীন, ভারত এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর উচিত একসঙ্গে কাজ করে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরো ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ করার চেষ্টা করা।
চীনের বিবৃতিতে অজিত ডোভালের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। ডোভাল বলেন, ভারত ও চীন প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার। একটি স্থিতিশীল ও গঠনমূলক ভারত-চীন সম্পর্ক দুই দেশেরই স্বার্থ রক্ষা করে। তিনি বলেন, ভারত কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় এবং দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নে কাজ করতে চায়। ডোভাল আরো বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও সেগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা উচিত এবং এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে দুই দেশই লাভবান হতে পারে। চীনের বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ডোভাল ওয়াং ইকে বলেছেন যে, নতুন চীনকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি ছিল ভারত। পাশাপাশি তাইওয়ান প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাম্প্রতিক এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় নতুন গতি আনতে পারে। তবে সীমান্ত ইস্যুসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো পুরোপুরি সমাধান না হওয়ায় সম্পর্কের উন্নতি কতটা দ্রুত হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
আরও পড়ুন: মাদক, বাল্যবিবাহ ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সকলকে আসতে হবে: রাশেদ খাঁন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন