প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের প্রথম শ্রেণির মঠবাড়িয়া পৌরসভায় ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন পানি সরবরাহ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পরও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। পৌরবাসী অনিয়মিত পানি সরবরাহ, বিভিন্ন স্থানে পাইপ ফেটে যাওয়া এবং দুর্গন্ধ ও কর্দমাক্ত পানি সরবরাহের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এর ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির কাজের মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে সি.টি.ই.আই.পি প্রকল্পের আওতায় ৫৩ কোটি ৯ লাখ ৯৫ হাজার ৮৬ টাকা অর্থায়নে পানি সরবরাহ প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ করা হয়। এই প্রকল্পের কাজটি পান গোপালগঞ্জের সিনোকোনোস্ট-এমটি অ্যান্ড এসএস কনসোর্টিয়াম নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করেছে। পৌর শহরে ৫৪ কিলোমিটার পানির পাইপ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। পাইপ লাইনের মাধ্যমে বাসা-বাড়িতে সুপেয় পানি সরবরাহ করার লক্ষ্য ছিল।
ভুক্তভোগীরা জানান, ২০১৪ সালে কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারের লোকজন মঠবাড়িয়া পৌরসভার অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে প্রকল্পের অবকাঠামো কাজে খুবই নিম্নমানের পাইপ, লোহা, পাথর, সিমেন্ট ব্যবহার করেছে। পাম্প হাউজ এবং বেজ ঢালাইসহ আনুষঙ্গিক নির্মাণ কাজের আওতায় ওই সময়ে অভিযোগ উঠলেও পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো গুরুত্ব দেয়নি বরং বিভিন্নভাবে হুমকি করা হয়েছে।
পৌর বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই পানি প্রকল্পের কাজ শেষ হতে না হতেই বিভিন্ন স্থানে পাইপ ফেটে যাচ্ছে এবং অনিয়মিত পানি সরবরাহ ও দুর্গন্ধসহ কর্দমাক্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে। এই পানি পান করা তো দূরের কথা, দৈনন্দিন কাজেও ব্যবহারের জন্য প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
পৌর শহরের ২ নং ওয়ার্ডের গৃহিণী মাহমুদা আক্তার জানান, সময় মতো পানি না পাওয়ার কারণে তাদের বাসা-বাড়ির কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয়, কখন পানি আসবে। ইতোমধ্যে বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে গেলে ফিরে এসে আর পানি পাওয়া যায় না। তারা খুব সমস্যার মধ্যে আছেন।
নিউমার্কেট এলাকার বাসিন্দা মো: মাহিম আকন বলেন, পৌরসভার পানি প্রকল্পের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতের বরাদ্দ আত্মসাৎ করে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা একটি চরম অন্যায় এবং নিন্দনীয় অপরাধ। দুর্নীতির কারণে পৌরসভায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সত্যিই পীড়াদায়ক।
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুর রহমান কাওসার বলেন, প্রকল্পটি প্রায় পাঁচ বছর আগে শেষ হয়েছে এবং তিনি এখানে নতুন জয়েন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর আসছে যে পানি লাইনের পাইপ ফেটে যাচ্ছে। তারা চেষ্টা করছেন নিম্নমানের পাইপগুলো মেরামত করার। তিনি উল্লেখ করেন লো ভোল্টেজের কারণে সঠিক সময় পানি উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না, এজন্য পৌরবাসী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা অমল কৃষ্ণ সাহা বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে গ্রাহকরা সময় মতো পানি পাচ্ছেন না। পূর্বে নিম্নমানের কাজ হওয়ার কারণে বিভিন্ন সময় পাইপগুলো ফেটে যাচ্ছে, সেগুলো সংস্কার করতে হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন