প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হওয়ার পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত কাশ্মীরি চলচ্চিত্র নির্মাতা আরফাত শেখ। এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডুলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান থেকে নামার পর মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) তাকে আটক করে।
দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর গত মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) তার জামিন মঞ্জুর হয় এবং বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) তাকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে তার পরিবার ও বন্ধুদের তৈরি একটি প্রচারণা দল জানায়। তবে, মুক্তি পেলেও তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়ার জন্য দায়ের করা ডিপোর্টেশন মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে।
এদিকে, আরফাত শেখের আটক নিয়ে মার্কিন প্রশাসন ও তার সমর্থকদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, তিনি সাময়িকভাবে বৈধ ভিসায় দেশে প্রবেশ করলেও পরবর্তীতে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন। তাদের মতে, আশ্রয়ের জন্য আবেদন জমা থাকলেই কেউ থাকার আইনি অধিকার পান না।
অন্যদিকে, তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা জানান, আরফাত ২০১৯ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় চলচ্চিত্রে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০২০ সালে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় তার সেখানে বসবাস ও কাজ করার বৈধ অনুমতি ছিল।
এই গ্রেফতারের ঘটনাটি ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক কঠোর অভিবাসন নীতির একটি অংশ।
মূলত যারা স্বল্পমেয়াদী ভিসায় এসে পরবর্তীতে স্থায়ী হওয়ার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেন, তাদের চিহ্নিত করে ভিসা বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।
মার্কিন সরকার একে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারের পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এমন অভিযান অভিবাসী ও বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে এবং বৈষম্যের সৃষ্টি করছে।
ভারত-শাসিত কাশ্মীরে জন্ম নেওয়া আরফাত শেখ একজন সফল ও সমাদৃত চলচ্চিত্র নির্মাতা। তার ২০২৪ সালের প্রথম সিনেমা ‘জাফরান কিংডম’ শিকাগো ফিল্মমেকার্স অ্যাওয়ার্ডস, এলএ ফিল্ম অ্যান্ড ডকুমেন্টারি অ্যাওয়ার্ডস, মেলবোর্ন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও ওয়েক ফরেস্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে।
এ ছাড়া টিনেক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে তিনি ‘ইমার্জিং ফিল্মমেকার অ্যাক্টিভিস্ট অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন