প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে আবারও গতিশীলতার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবটি এখন চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর্যায়ে উপনীত হয়েছে বলে জানা গেছে। সব কিছু সঠিকভাবে পরিচালিত হলে, চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা আগামী সপ্তাহে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যদি মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়, তবে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে, নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও গ্রহণ করা হয়নি। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রূপ নিচ্ছে এর আর্থিক প্রভাব। সরকারের ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ বিবেচনায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পে-স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তবে, বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে পিছিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে, সরকার তাদের আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী বাস্তবায়নের উপায় খুঁজছে। প্রয়োজনে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার কথা মাথায় এসেছে। ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকরের পর, দীর্ঘ সময় ধরে নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। এ সময়ের ভিতর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রতিবছর নির্ধারিত হারে বেড়েছে, কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অবস্থায় নবম জাতীয় পে স্কেলের দাবি জোরালো হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর, গত ২১ এপ্রিল পে স্কেলের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তবায়িত হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি হতে পারে। অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সামলাতে রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় আরো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন হবে। এদিকে, নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে প্রত্যাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা এখন তাকিয়ে রয়েছে, মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি কবে উঠবে, অনুমোদনের পর কখন প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং কোন কাঠামোয় নতুন বেতন কার্যকর হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন