প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকে রাজধানীর বঙ্গভবনের সামনে উৎসুক জনতা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে কঠোর নিরাপত্তা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত বঙ্গভবনের সামনে এমন দৃশ্য দেখা যায়। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবর প্রকাশ হওয়ার পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা বঙ্গভবনের বাইরের এলাকায় অবস্থান নিতে শুরু করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন অনেকেই যাঁরা উৎসুক।
সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গভবনের মূল ফটকের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। ব্যারিকেডের ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। এর ফলে সংবাদকর্মীরা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দ্বিতীয় ফটকের সামনে অবস্থান নেন।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকটি যানবাহন পরিকল্পিতভাবে বঙ্গভবনে প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায়। পুরো এলাকায় নিরাপত্তা সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
বঙ্গভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া যাত্রাবাড়ীর জামিয়া ইসহাকিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আবদুল্লাহ বলেন, ‘শুনেছি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সাহেব পদত্যাগ করেছেন। উনি বের হন কি না, তাই দেখতে এসেছি। মতিঝিলে একটি কাজে এসেছিলাম, সেখান থেকে এখানে চলে এসেছি।’
এর আগে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে জাতীয় সংসদে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। তিনি বলেন, গুরুতর অসুস্থতা এবং বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক জটিলতার কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হয়ে পদত্যাগ করেছেন।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে তাঁর অপসারণের দাবি উঠছিল এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছিল জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠনের মাধ্যমে। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হলেও তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে বহাল রাখার বিষয়ে রাজনৈতিক আলোচনা চলছিল। অবশেষে স্বাস্থ্যগত কারণে শুক্রবার রাষ্ট্রপতি পদ থেকে তিনি সরে দাঁড়ান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন