প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুজাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘শেভরন’-এর চেয়ারম্যান ও সিইও মাইক ওয়ার্থের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স বিজনেস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিমত প্রকাশ করে ট্রাম্প প্রশাসনের অবদানকে স্বীকৃতি না দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে মার্কিনদের স্বস্তি দিতে তেল কোম্পানিগুলোকে অবিলম্বে খুচরা জ্বালানির দাম কমানোর নির্দেশও দিয়েছেন ট্রাম্প।
সোমবার (৩ আগস্ট) ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া একটি পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ট্রাম্প প্রশাসন না থাকলে তেল শিল্প সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যেত। তিনি জানান, তার মেধা, দূরদর্শিতা ও কঠোর নীতির কারণে মার্কিন জ্বালানি খাত বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে। অথচ শেভরন সিইও মাইক ওয়ার্থ সাক্ষাৎকারে কোম্পানির সাফল্যের কারণগুলোর ব্যাখ্যা করলেও ট্রাম্প প্রশাসনের সেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা ভুলে গেছেন।
এছাড়া ভেনেজুয়েলা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসনের কঠোর পররাষ্ট্রনীতি ও চাপের কারণে শেভরন সেখানে পুনরায় কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিপুল সম্পদের অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে।
অন্যদিকে সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তুলে ধরেন শেভরন সিইও মাইক ওয়ার্থ। তিনি জানান, ইরান সংঘাত, লোহিত সাগরে চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে ঘটে, যার বড় একটি অংশ আটকা পড়েছে, ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
ভূ-রাজনৈতিক এই অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মার্কিন বাজারেও। আন্তর্জাতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে জাতীয় গড় মূল্য প্রতি গ্যালন ৫.১০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা সংঘাত শুরুর তুলনায় ১ ডলারের চেয়েও বেশি।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন সাধারণ মানুষের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প দাবি করেছেন, সংঘাত শেষ হলে এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে জ্বালানির দাম অনেকাংশে কমে আসবে। তবে অর্থনীতিবিদরা এই বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে এবং বৈশ্বিক যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পরিণতির বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন