প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ওপর আরোপিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে গেছে। বুধবার মধ্যরাত থেকে আবারও জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে নেমে পড়েছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সাগরে ফেরার সুযোগ পেয়ে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার জেলেপল্লিগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
বৃহস্পতিবার উপজেলার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের আকবর বলী জেটিঘাট এলাকা পরিদর্শন করলে দেখা যায়, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ট্রলারগুলো জাল, জ্বালানি তেল, চাল-ডালসহ প্রয়োজনীয় রসদ নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে। প্রচুর মাছ নিয়ে তীরে ফিরার আশায় উচ্ছ্বসিত জেলেরা।
স্থানীয় জেলে ও উপজেলা মৎস্য কার্যালয় থেকে জানা গেছে, কুতুবদিয়া উপজেলায় মোট ৩৫ হাজার জেলে থাকলেও নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১০ হাজার ৯৫৯ জন। নিষেধাজ্ঞাকালে নিবন্ধিত জেলেদের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জনপ্রতি ৭৭ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়েছে। তবে জেলেরা অভিযোগ করেছেন, এই সহায়তা দিয়ে পুরো সময় পরিবারের খরচ চালানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে, উপজেলার প্রায় ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ অনিবন্ধিত জেলে সরকারি সহায়তার আওতার বাইরের অবস্থানে রয়েছেন। ফলস্বরূপ, নিষেধাজ্ঞার সময় তাদের মধ্যে অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছেন। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের জেলেদের যেন বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।
উল্লেখ্য, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, মাছের নিরাপদ প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে সরকার গত ১৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।
উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের জেলে জকির আলম, ফরিদ আলম ও ইউনুস জানান, তারা নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় জাল ও ট্রলার মেরামত করে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এখন যদি ভালো মাছ ধরতে পারেন, তবে পরিবারের আর্থিক সংকট কিছুটা কাটবে বলে তারা আশাবাদী।
কুতুবদিয়া উপজেলা মৎস্যজীবী ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞাকালে জেলেরা কঠিন সময় অতিবাহিত করেছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় মধ্যরাত থেকেই তারা সাগরে মাছ ধরার জন্য চলে গেছেন।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের ক্ষেত্র সহকারী এরফান উদ্দিন বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় ১০ হাজার ৯৫৯ জন নিবন্ধিত জেলেকে সরকারি সহায়তা হিসেবে চাল প্রদান করা হয়েছে। তবে দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের সাতজন জেলে এখনও তাদের বরাদ্দের চাল গ্রহণ করেননি। তিনি আরও জানান, অনিবন্ধিত জেলেদের নিবন্ধনের আওতায় আনতে কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন