প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেটওয়ার্ক কাভারেজ কাগজে-কলমে থাকলেও মানসম্মত মোবাইল সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ গ্রাহক কলড্রপ এবং ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে ভোগান্তিতে রয়েছেন। টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদও এই সমস্যার শিকার হয়েছেন। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, প্রত্যন্ত এলাকায় দ্রুতগতির সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা চিহ্নিত করার জন্য গবেষণার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব এলাকায় মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেয়ার উপায় খুঁজতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
দেশের মোবাইল সেবার অবস্থা অনেকটা ‘কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই’ বলেই মনে হচ্ছে। বিটিআরসির নির্ধারিত সূচক অনুযায়ী, মোবাইলে কলড্রপের হার এক শতাংশ বা এর কম হওয়া উচিত। গ্রাহকের পাঠানো মোট এসএমএসের অন্তত ৯৮ শতাংশ সফলভাবে প্রাপকের কাছে পৌঁছাতে হবে। ফোরজিতে ডাউনলোড গতি সাড়ে ৩ এমবিপিএসের বেশি থাকতে হবে।
তবে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সর্বশেষ সেবা প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, টেলিটক ছাড়া দেশের অন্য তিন মোবাইল অপারেটর নির্ধারিত ১২টি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। তারা বলছেন, কোনো অপারেটরের সেবায় কাঙ্ক্ষিত মানের সেবা মিলছে না।
কলড্রপের সমস্যায় শুধু গ্রাহকই নন, টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদও ভোগান্তিতে। তিনি বলেন, "এক্সপ্রেসওয়েতে কথা বলতে গেলে কলড্রপ হয়।"
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে শহর ও গ্রামে মানসম্মত টেলিকম সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। টেলিযোগাযোগ নীতিমালায় দুর্গম অঞ্চলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য তরঙ্গভিত্তিক প্রণোদনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিটিআরসি এই পরিস্থিতিতে গবেষণার মাধ্যমে নিম্নমানের সেবা পাচ্ছে এমন প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় মানসম্মত সেবা দেয়ার উপায় খুঁজবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার গঠিত কমিটি।
মোবাইল অপারেটররা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহম্মদ বলেন, "এই উদ্যোগকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখি।" বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, "কারও নেটওয়ার্ক নেই। এসব ক্ষেত্রে একটিভ শেয়ারিং করে নেটওয়ার্ক চালু করা গেলে এটা ভালো হবে।"
বর্তমানে দেশে মোবাইল সিম সংযোগের সংখ্যা ১৯ কোটি ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে ১২ কোটি ২২ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন