প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলতি বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ব্রাজিলের ফুটবল মহলে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের ঝড় উঠলেও, প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপরেই আস্থা রাখছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)।
সেলেসাওদের এই চরম বিপর্যয়ের পরও ৬৭ বছর বয়সী এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ডকে ছাঁটাই করা হচ্ছে না। বরং ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিলের বড় ধরনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার দায়িত্ব তার কাঁধেই রাখা হচ্ছে, এমনটি নিশ্চিত করেছেন সিবিএফ-এর ফুটবল ডিরেক্টর রদ্রিগো কায়েতানো।
বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল দিকনির্দেশনার অভাবেই দল বিশ্বকাপে ভুগছে। তাই অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা আনচেলত্তির সঙ্গেই এই নতুন চক্র শেষ করতে চান।
নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে হেক্সা জেতার স্বপ্ন চুরমার হওয়ার পর, কোচ আনচেলত্তির বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষক ও দেশটির গণমাধ্যমগুলো কঠোর সমালোচনা করছে। ম্যাচের শুরুতে মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েসকে পেনাল্টি শট নিতে দেওয়া এবং তার পেনাল্টি মিস করা, কিংবা ক্লান্ত দেখানোর পরও মাঝমাঠে অভিজ্ঞ কাসেমিরো ও দানিলোকে পুরো সময় খেলিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
এ ছাড়া, দ্বিতীয়ার্ধের মাঝে নেইমারকে মাঠে নামানো হলেও তিনি দলের খেলায় কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেননি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নেইমার পেনাল্টি থেকে সান্ত্বনাসূচক একমাত্র গোলটি করলেও, গোল করার পর নরওয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে তার অহেতুক তর্কে জড়ানোর ঘটনাটিকে ব্রাজিলের প্রথম সারির সংবাদপত্র ‘ও গ্লোবো’ বেশ কড়া ভাষায় ধুয়ে দিয়েছে।
এদিকে, ব্রাজিলের প্রভাবশালী ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, বর্তমান দলটি ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে সময় পার করছে। ফুটবল পরিসংখ্যান বিষয়ক প্রতিষ্ঠান অপ্টার তথ্য অনুযায়ী, নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলের বল পজিশন বা বলের দখল ছিল মাত্র ৩৫ শতাংশ, যা ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বনিম্ন বল দখলের রেকর্ড।
ব্রাজিলের স্পোর্টস টিভির জনপ্রিয় উপস্থাপক আন্দ্রে রিজেক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ব্রাজিলিয়ান ফুটবল এখন একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে এবং দল সাম্প্রতিক সময়ে সেনেগাল, জাপান, মরক্কো ও কলম্বিয়ার মতো দলগুলোর কাছে নিয়মিত হারতে হারতে এখন হারার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক বিপর্যয়কে কাটিয়ে উঠে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: ইএসপিএন, রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন