প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট দেশ ত্যাগ করেন। এই সময় তিনি তিন পৃষ্ঠার একটি সুনির্দিষ্ট পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন এবং সেটি তার ভ্যানিটি ব্যাগে নিয়ে চলে গেছেন বলে দাবি করেছেন দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী।
শনিবার (৩০ মে) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউটিউবভিত্তিক সংবাদ প্ল্যাটফর্ম ‘দি পোস্ট’-এ প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ করেন।
মতিউর রহমান চৌধুরী জানান যে, শেখ হাসিনা সাংবিধানিক নিয়ম অনুসরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু জরুরি পরিস্থিতির কারণে তিনি সেই পদত্যাগপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সশরীরে জমা দিতে পারেননি; বরং দ্রুত বের হওয়ার সময় সেটি তিনি নিজের সঙ্গেই নিয়ে গেছেন।
পদত্যাগপত্রের বিষয়বস্তু ও নাটকীয়তার প্রসঙ্গে প্রবীণ এই সাংবাদিক বলেন, তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জন্য তার সরকারের বিভিন্ন অবদান, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং আন্দোলনের মুখে দেশে সার্বিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে পদত্যাগের যথাযথ কারণ উল্লেখ করে ৩ পৃষ্ঠার একটি দীর্ঘ চিঠি লিখেছিলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) একজন কর্মীর সেটি অফিশিয়ালি টাইপ করার জন্য প্রস্তাবিত হয়েছিল। কিন্তু গণভবনের বাইরে তখন পরিস্থিতি এত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছিল যে, সেই চিঠিটি চূড়ান্তভাবে টাইপ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ ছিল না। ফলে হস্তলিখিত বা খসড়া চিঠিটিই শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ব্যাগে রয়ে গেছে।
মতিউর রহমান চৌধুরী সাক্ষাৎকারে শেষ মুহূর্তের উত্তেজনার অবস্থার বিবরণ দিয়ে জানান, ৪ আগস্ট রাতের পর ৫ আগস্ট দুপুরে চারদিক থেকে লাখ লাখ মানুষ যখন গণভবনের খুব কাছাকাছি চলে আসে, তখন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ওয়াকিটকি থেকে বারবার বার্তা আসছিল। দায়িত্বরত সেনা কর্মকর্তারা সেই সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, ‘আপনার হাতে আর এক মুহূর্তও সময় নেই, এখনই গণভবন ছাড়তে হবে।’
এমন চরম তাড়াহুড়োর মাঝে শেখ হাসিনা তার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভ্যানিটি ব্যাগটি ভেতরের একটি চেয়ারের ওপর ফেলে রেখে বাইরে চলে আসেন। পরে একদম শেষ মুহূর্তে যখন তিনি গাড়িতে উঠবেন, তখন পাশে থাকা সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমার ব্যাগটা ভেতরে রয়ে গেছে, ওটা একটু নিয়ে আসো।’ এরপর সেই সেনা কর্মকর্তা ব্যাগটি নিয়ে আসলে তিনি গাড়িতে ওঠেন; এবং সেই ব্যাগের ভেতরেই ছিল বহুল আলোচিত সেই ৩ পৃষ্ঠার পদত্যাগপত্র।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন