প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা (ভ্যাকসিন) প্রয়োগের নামে টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে একজন নার্সের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার কারণে রোগীকে আটকে রাখার অভিযোগও করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নার্সকে শোকজ করেছে।
অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা বিশারাবাড়ি এলাকার ২ শিশু, আব্দুল্লাহ (৪) ও খাদিজা (৩), বিড়ালের কামড়ে আহত হলে তাদের চিকিৎসার জন্য শুক্রবার (৫ জুন) রাতে তাদের চাচা সাব্বির কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা প্রয়োগের সময় দায়িত্বরত নার্স মোর্শেদা আক্তার দুই শিশুর জন্য ২০০ টাকা দাবি করেন।
স্বজনদের দাবি অনুযায়ী, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নার্স তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে রোগীদের আটকে রাখার চেষ্টা করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নার্স রোগীর স্বজনদের উদ্দেশে বলছেন, "১০০ টাকা কি আপনার জন্য বেশি হয়ে যায়? আপনি দেন দেন বলছেন, আমি তো ভাবছি আপনি টাকা দেবেন। কিন্তু কেন আপনি টাকা দিচ্ছেন না?"
ভুক্তভোগী শিশুদের চাচা সাব্বির বলেন, "ভাতিজা ও ভাতিজিকে বিড়াল কামড় দিলে রাতে হাসপাতালে নিয়ে যাই। শুরুতে টিকা দিতে কিছুটা অনীহা ছিল। পরে অনুরোধ করার পর টিকা দেওয়া হয়। টিকা দেওয়ার পরই তিনি টাকা দাবি করেন। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি বিভিন্ন ধরনের কথা বলেন এবং এক পর্যায়ে বলেন, আমি এখান থেকে চলে যাব, স্যারকে বলেন আমাকে বদলি করে দিতে।"
এ ঘটনার পর সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বা নির্ধারিত নিয়মে সেবা প্রদানের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তারা বলছেন, সরকারি হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসাসেবায় অর্থ দাবি করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অভিযুক্ত নার্স মোর্শেদা আক্তারের বক্তব্য জানার জন্য তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান জানান, সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে রোগীর কাছ থেকে কোনো ধরনের টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগটি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নার্সকে শোকজ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ বা বদলির সুপারিশ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন