প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে খুবই জরুরি হচ্ছে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজকে মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, দাদন ব্যবসা সহ সকল ধরনের সামাজিক অপরাধমুক্ত করা। এ সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি উল্লেখ করেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে যদি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা যায়, তবে এসব অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
লালমনিরহাটে নিজ বাসভবনে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেন।
বাসস : উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তার মধ্যে আপনি কী ধরনের সম্পর্ক দেখতে পান?
মন্ত্রী : উন্নয়ন শুধুমাত্র রাস্তা, সেতু, স্কুল-কলেজ অথবা ভবন নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যদি একটি এলাকায় মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ বিস্তার লাভ করে, তাহলে সেখানে প্রকৃত উন্নয়ন প্রতিষ্ঠিত হয় না। মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বাসস : বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ কী বলে মনে করেন?
মন্ত্রী : যুবসমাজের জন্য মাদক একটি বড় হুমকি। এর সঙ্গে জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক এবং দাদন ব্যবসাও সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অনেক পরিবারে অশান্তি, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয়ের পেছনে এসব সামাজিক অপরাধের প্রভাব রয়েছে। ফলে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাসস : এসব সমস্যা মোকাবিলায় আপনি কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন?
মন্ত্রী : শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করা হবে না। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, ব্যবসায়ী, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষার্থী সহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
বাসস : ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ সংগঠনের লক্ষ্য কী?
মন্ত্রী : দীর্ঘ বিরতির পর গত ৪ জুলাই ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয়েছে। এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক এবং দাদন ব্যবসার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
বাসস : সংগঠনটির কার্যক্রম কীভাবে পরিচালনা হচ্ছে?
মন্ত্রী : ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক, রাজনৈতিক প্রতিনিধি এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিগুলি স্থানীয়ভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রশাসনকে সহযোগিতা করছে।
বাসস : এই উদ্যোগের প্রাথমিক ফলাফল কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
মন্ত্রী : ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি আমরা। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বেড়েছে। অনেকেই সামাজিক অপরাধ থেকে সরে এসে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আমরা এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছি।
বাসস : এই আন্দোলন কি শুধু লালমনিরহাটে সীমাবদ্ধ থাকবে?
মন্ত্রী : না, আমার প্রত্যাশা, এটি জাতীয় পর্যায়ে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হবে। দেশের মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ এবং যৌতুকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তখন একটি নিরাপদ, মানবিক এবং আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
বাসস : সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
মন্ত্রী : সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। খাল পুনঃখনন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কৃষকদের সহায়তা এবং নারীর ক্ষমতায়ন সহ অন্যান্য উন্নয়ন উদ্যোগ দেশের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে উন্নয়নের সুফল টেকসই করতে সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য।
বাসস : তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
মন্ত্রীর উত্তর : তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথে অগ্রগতি হয়েছে এবং পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি এবং মানুষের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমি আশাবাদী।
বাসস : এই পরিস্থিতিতে নতুন বাংলাদেশ গঠনে আপনার বার্তা কী?
মন্ত্রী : একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে উন্নয়ন ও সামাজিক মূল্যবোধকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, দাদন ব্যবসা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সকলকেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্র, প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগেই একটি নিরাপদ, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন