প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মধ্যস্থতা বিরোধ নিষ্পত্তির একটি অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি, যা বিচারপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ও মানসিক ভোগান্তি কমিয়ে প্রদান করতে পারে দ্রুত ও সাশ্রয়ী ন্যায়বিচার। কার্যকর মধ্যস্থতার মাধ্যমে দেশের আদালতে বিচারাধীন প্রায় ৪৫ লাখ মামলার জট উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টেন্টালে ‘ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতা এবং দেওয়ানি মামলা পরিচালনা পদ্ধতির উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘আইন পেশাজীবীদের জন্য মৌলিক মধ্যস্থতা প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ সম্পর্কে আলোচনা করেন।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো দেশের দরিদ্র, প্রান্তিক, সুবিধাবঞ্চিত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকার এই সমস্ত মানুষের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে।
তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারীদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আইনগত জ্ঞানই নয়, মানবিকতা, প্রজ্ঞা, ধৈর্য এবং আস্থাভিত্তিক সমাধান তৈরির সক্ষমতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী অংশগ্রহণকারীদের জাপানের একটি সুপরিচিত গ্রন্থ ‘জাস্টিস উইথ এ স্মাইল’ পড়ার জন্য আহ্বান জানান এবং নিশ্চিত করেন যে, এ ধরনের সাহিত্য মধ্যস্থতাকারীদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, অনেক সময় একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে বিরোধের পক্ষগুলোর আইনজীবীরা সমঝোতায় যেতে অনাগ্রহী থাকেন। তবে বাস্তবতা এই যে, দেশে ও বিদেশে অসংখ্য সফল মধ্যস্থতা ও সালিশের পেছনে আইনজীবীদেরদেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে আইন পেশায় আলোচনা ভিত্তিক বিরোধ নিষ্পত্তির একটি ইতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে উঠছে, যা আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মধ্যস্থতা উভয়পক্ষের জন্যই লাভজনক একটি পদ্ধতি। অন্যদিকে, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় বছরের পর বছর সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় করা হয়, ফলে মানুষ মানসিক উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়। তাই হত্যা বা অন্যান্য গুরুতর আমলযোগ্য অপরাধ ছাড়া অধিকাংশ বিরোধ আলোচনা মাধ্যমে নিষ্পত্তির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
মো. আসাদুজ্জামান জানান, এ প্রকল্পের আওতায় সর্বোত্তম কর্মদক্ষতা প্রদর্শনকারী একজন নারী ও একজন পুরুষ মধ্যস্থতাকারীকে জাপানে উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। এই উদ্যোগ মধ্যস্থতাকারীদের আরও দক্ষ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি জাপান সরকার, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এবং জাপানের কেইও ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট আইনজীবী মিস মাসাকো মিয়াতাকেসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি ঢাকা-নারিতা রুটে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
এ প্রকল্প আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. খাদেমউল কায়েসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি মিস জুনকো তাকাহাশি, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের (আইসিডি) উপমহাপরিচালক মি. কাজুনোরি নোসে এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন বক্তব্য রাখেন।
দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার এবং জেলা জজ আদালতে কর্মরত আইনজীবীসহ মোট ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে মধ্যস্থতা পদ্ধতির মৌলিক ধারণা, কার্যকর যোগাযোগ কৌশল, সমঝোতা পরিচালনার দক্ষতা, ব্যবহারিক অনুশীলন এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
প্রশিক্ষণের মূল প্রশিক্ষক ছিলেন জাপানের খ্যাতনামা কেইও ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট আইনজীবী মিস মাসাকো মিয়াতাকে। তিনি মধ্যস্থতা বিষয়ে জাপানের অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চা এবং ব্যবহারিক কৌশল তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাইকার যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে মধ্যস্থতা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং বিচারপ্রার্থীদের জন্য সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন