প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানে সম্প্রতি ইসরাইলি বিমান হামলায় তেহরানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।
গত ৭ ও ৯ মার্চে চালানো ইসরাইলি বিমান হামলায় ইসফাহানের নকশ-ই জাহান চত্বর এবং চেহেল সোতুন প্রাসাদসহ ঐতিহাসিক স্থানগুলো হামলার মুখে পড়ে। এই হামলায় প্রাচীন গম্বুজ ও মিনারগুলো কেঁপে ওঠে এবং ৪০০ বছরের পুরনো রাজকীয় চত্বর জুড়ে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে।
দুই সপ্তাহ পরেও কিছু কিছু জায়গায় পায়ের নিচে পলেস্তারা ও ভাঙা টালি মচমচ করছিল।
স্থানীয় নিরাপত্তারক্ষী রসুল মোসাভি এই ভবনগুলোর প্রতি তার গভীর অনুরাগের কথা জানান, যেগুলোর সাংস্কৃতিক মূল্য অপরিসীম।
বিস্ফোরণে পাওয়া আঘাতের কারণে মাথায় তখনও গজ বাঁধা অবস্থায় রসুল মোসাভি বললেন, ‘এই ভবনগুলো আমাদেরই অংশ ছিল।’ তিনি রয়টার্সের সাংবাদিকদের সেই জাদুঘরটি ঘুরিয়ে দেখান, যেখানে তিনি ১৬ বছর ধরে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন।
‘এই জায়গাটা আমার হৃদয়ের খুব কাছের।’
৯ মার্চের বোমা হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইসফাহান গভর্নরের ভবন, যা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে যায় এবং হামলার সময় সেটি খালি ছিল বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রয়টার্সের সাংবাদিকদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দেয়া হয়েছিল এবং তারা ইউনেস্কো-স্বীকৃত স্থানসহ ইরানের ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে এই সংঘাতের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করেছেন।
মার্চ মাসে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধের যুদ্ধবিরতির আগে, রয়টার্সের সাংবাদিকদের প্রাসাদ, নকশ-ই জাহান চত্বর ও তার আশেপাশের এলাকা এবং তেহরানের দুটি প্রাসাদে প্রবেশের বিরল সুযোগ দেয়া হয়েছিল।
তারা স্বচক্ষে দেখেছেন, কীভাবে এই যুদ্ধ ইরানের ঐতিহাসিক স্থানগুলোর ক্ষতি করেছে, যার মধ্যে জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কো পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীনে সুরক্ষিত কিছু স্থানও রয়েছে। সব মিলিয়ে, রয়টার্সের সাংবাদিকরা ১১টি ঐতিহাসিক ভবনে ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
এছাড়াও, বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোতে যুদ্ধের প্রভাব পর্যবেক্ষণকারী বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, তারা ইসফাহানের ট্রান্স-ইরানিয়ান রেলওয়ে ও জামে মসজিদের পাশাপাশি প্রায় ৬৩,০০০ বছর আগে মানব বসতি স্থাপন করা প্রাগৈতিহাসিক গুহার কাছে অবস্থিত ১,৮০০ বছরের পুরোনো একটি দুর্গেও ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তারা ১১টি ঐতিহাসিক ভবনের ক্ষয়ক্ষতি নথিভুক্ত করেছেন এবং ট্রান্স-ইরানিয়ান রেলপথ ও প্রাচীন মসজিদের মতো অন্যান্য স্থানেও অতিরিক্ত ধ্বংসযজ্ঞের কথা উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, ইউনেস্কো ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো পরিদর্শনের জন্য কোনো দল পাঠায়নি, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের আন্তর্জাতিক তালিকায় থাকা দুটি স্থানসহ বেশ কয়েকটি জাতীয় সাংস্কৃতিক সম্পত্তি মিলিয়ে মোট সাতটি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তারা নিশ্চিত করেছে।
ইউনেস্কো আরও বলেছে যে, সংঘাত চলাকালীন তাদের সাথে কোনো পরামর্শ করা হয়নি।
তবে, তারা সকল যুদ্ধরত পক্ষকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষাকারী আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলছে, দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে রয়েছে ভাঙা কাচ, চূর্ণবিচূর্ণ টালি, ফাটল ধরা দেয়াল এবং বোমার অভিঘাত তরঙ্গের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া ভিত্তি, যা বিস্ফোরণস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে থাকা স্থাপনাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, এই প্রতিবেদনটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের পদ্ধতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে পূর্ববর্তী সংঘাতগুলোর তুলনায় স্বীকৃত ঐতিহাসিক স্থানগুলো রক্ষার ওপর কম গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আগের যুদ্ধগুলোতে, সাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলোকে সাধারণত ‘হামলা নিষিদ্ধ তালিকা’-য় রাখা হতো এবং এই স্থানগুলোর কাছাকাছি বোমা হামলার জন্য উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের প্রয়োজন হতো।
অন্যদিকে, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গভর্নরের কার্যালয়ে হামলার কথা স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে সামরিক উদ্দেশ্যই তাদের এই পদক্ষেপকে পরিচালিত করেছে। আইডিএফ আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার দাবি করে বলেছে যে, তাদের অভিযানগুলো নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন