প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : হাইকোর্ট জানায়, শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটির পূর্বানুমোদন ছাড়া গভর্নিং বডি শিক্ষককে সরাসরি বরখাস্ত করতে পারে না।
গচিহাটা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল মনসুরকে পেশায় পুনর্বহালের জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশের বিরুদ্ধে করা রিটের রুল খারিজ করে বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী ও বিচারপতি দিহিদার মাসুম কবিরের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় প্রদান করে। সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশিত হয়েছে।
২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি গভর্নিং বডির সভায় গচিহাটা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল মনসুরকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তা কার্যকর করা হয়। পরবর্তীতে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটিতে পাঠানো হলে, ২০ এপ্রিলের সভায় তা নামঞ্জুর করে ওই শিক্ষককে বকেয়া বেতন-ভাতাসহ পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে, বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন গভর্নিং বডির সভাপতি আখতারুজ্জামান। এই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, গভর্নিং বডি শিক্ষককে সরাসরি বরখাস্ত করতে পারে না, তারা কেবল প্রস্তাব দিতে পারে। বরখাস্ত কার্যকরের জন্য আপিল ও সালিশ কমিটির মাধ্যমে বোর্ডের অনুমোদন অপরিহার্য। স্বীকৃত বেসরকারি কলেজের শিক্ষককে বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
হাইকোর্ট আরও উল্লেখ করে, টেলিফোনে তদন্ত কমিটি গঠন বেআইনি। তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে যথাযথভাবে ডাকা গভর্নিং বডির সভায় আনুষ্ঠানিক রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে। গভর্নিং বডির সভাপতি বা অন্য কারো মৌখিক কিংবা টেলিফোনিক নির্দেশ আনুষ্ঠানিক রেজ্যুলেশনের বিকল্প হতে পারে না।
এই রায়ে হাইকোর্ট ঘোষণা করে, গচিহাটা কলেজের গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত বাতিল করে শিক্ষককে স্বপদে পুনর্বহাল এবং বকেয়া পাওনা বুঝিয়ে দিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটির সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ যথাযথ ও আইনসম্মত। তবে, মামলার বিচারাধীন অবস্থায় শিক্ষক আবুল মনসুর অবসরের বয়সে পৌঁছে যাওয়ায় তাকে আগের পদে পুনর্বহালের সুযোগ নেই বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। তবে, অবসরের বয়সে পৌঁছানোর তারিখ পর্যন্ত তার বকেয়া বেতন, চাকরিসংক্রান্ত সুবিধা এবং প্রযোজ্য পেনশন সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী কামরুজ্জামান। শিক্ষকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জহিরুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আনিসুর রহমান খান ও সুলতান মাহমুদ বান্না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন