প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ : ফ্রান্সের প্রভাবশালী বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মধ্য-ডানপন্থী প্রার্থী এদুয়ার ফিলিপকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে নিজে নির্বাচনে না দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে, ২০২৭ সালের নির্বাচনের জন্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফিলিপের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।
এখন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য মাত্র কিছু মাস বাকি রয়েছে। সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন করার পর মাখোঁ আর প্রার্থী হতে পারবেন না। এমন অবস্থানে বাম, মধ্য ও ডানপন্থী প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে তৎপর হয়ে উঠেছেন। শেষ পর্যন্ত এই লড়াইটির স্থল হতে পারে উগ্র ডানপন্থীদের সাথে মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
প্রসঙ্গত, প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ সংবাদটি জানিয়েছে।
মাখোঁর ঘনিষ্ঠ শিবিরের আরেক মধ্যপন্থী সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আতালও নির্বাচনে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। এই পরিস্থিতিতে, মাখোঁপন্থী ঘরানার অতিরিক্ত প্রার্থী ভোট ভাগ করে দিতে পারেন। ফলে, চতুর্থবারের চেষ্টায় উগ্র ডানপন্থী নেত্রী মেরিন ল্য পেন প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দারমানাঁ মাখোঁ সরকারের বাজেটমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বর্তমানে বিচারমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এক সময়ে তাকেও সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ভাবা হয়েছিল। তবে তিনি এখন ফিলিপকে সমর্থন দিয়েছেন।
আঞ্চলিক দৈনিক লা ভোয়া দ্য নোর-এর মঙ্গলবারের সংখ্যায় দারমানাঁ বলেন, ‘প্রার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে জনস্বার্থ রক্ষা করা যায় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছি। ফরাসি জনগণের জন্য সামাজিক পরিস্থিতিও কঠিন। তাই আমি বিভাজন আরও বাড়াতে চাই না। আমি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব না। বরং এদুয়ার ফিলিপকে সমর্থন করব। আশা করি, অন্যরাও একই কাজ করবেন।’
২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মাখোঁর প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফিলিপ বর্তমানে নরম্যান্ডির ল্য হাভরের মেয়র। জনমত জরিপ অনুযায়ী, উগ্র ডানপন্থীদের মোকাবিলায় মধ্যপন্থীদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফিলিপের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি দারমানাঁকে ‘খাঁটি রাজনৈতিক প্রতিভা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারের ‘অগ্রভাগের নেতা’ হবেন বলেও মন্তব্য করেন।
নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে দারমানাঁ বলেন, মধ্যপন্থী শিবির বর্তমানে মেরিন ল্য পেন এবং কট্টর বামপন্থী নেতা জ্যাঁ-লুক মেলঁশোঁর পিছনে ‘তৃতীয় অবস্থানে’ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ফলে দ্বিতীয় দফার ভোটে মধ্যপন্থীদের থাকার সম্ভাবনা নেই।
বামপন্থী শিবিরে সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ আবারও নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন বলে জল্পনা চলছে। সেপ্টেম্বরে সোশ্যালিস্ট নেতা ‘ইউনিটি, নিউ ওয়ার্ল্ড, নিউ লেফট’ নামে একটি বই প্রকাশ করবেন।
এক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। দৈনিক ল্য মন্ডে গত সপ্তাহের শেষে জানিয়েছে, মাখোঁর নেতৃত্বাধীন এলিসি প্রাসাদ উদ্বিগ্ন যে ফিলিপ বা আতাল—কেউই ল্য পেনকে পরাজিত করতে পারবেন কি না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু আরও কার্যকর প্রার্থী হতে পারেন কি না, তা নিয়েও সেখানে ভাবা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন