প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, ‘জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।’
তিনি তার বক্তব্যে আরও জানান, ‘শহীদদের সর্বোচ্চ সম্মান ও স্বীকৃতি, আহতদের জীবনমান নিশ্চিত করতে এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন ও সহায়তা প্রদানে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’
আজ শনিবার সকালে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জুলাই জাতীয় সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেছেন।
তাঁরেক রহমান বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান চলাকালে আমি বারবার ভাবছিলাম, যদি আমি এই মুহূর্তে আমার মা’কে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, আপনার ওপর যে অবিচার ও অন্যায় হয়েছে, আপনি কি চান আমি এর প্রতিশোধ নেই? আমি বিশ্বাস করি মা বলতেন, তোমার কাজ এই মুহূর্তে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমি জানি যদি আমি আমার ভাইকে জিজ্ঞেস করতাম, তিনিও আমাকে একই উত্তর দিতেন।’
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জুলাই শহীদদের বিচার এদেশের মাটিতেই হবে। তবে তিনি বললেন, 'বিচারের নামে কারো প্রতি যেনো অবিচার না হয়। এর জন্য আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। একটু বিলম্ব হোক, তবে অন্যায়কারীর যেনো সঠিক বিচার হয়। আমরা সেই চেষ্টাই করবো।'
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং শহীদ হয়েছেন, তাঁদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিলো দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন। তাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ৫ আগস্ট যে অর্জন আমরা করেছি, তা একক কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়। এটি দেশের প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষের অর্জন। এটি হলো জনতার সম্মিলিত ত্যাগের ফসল।’
জাতিকে বিভক্ত করে দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়া যায় না, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জুলাই পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘তবে সে মানুষই ত্যাগ করতে পারে যার সাহস আছে। আপনারা আপনার আপনজনকে হারিয়েছেন, কেউ কেউ অঙ্গও হারিয়েছেন। যে অঙ্গ হারিয়েছেন, তা কি ঠিক হবে? না, ঠিক হবে না। তবে আমরা সবাই মিলে যদি দেশকে এগিয়ে নিতে পারি, একদিন গর্ব করে বলতে পারবেন, আপনার আপনজনের ত্যাগের বিনিময়ে দেশের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে। তাই আসুন সমস্ত দেশ, মাটি এবং মানুষের কল্যাণে সকলেই ঐক্যবদ্ধ হই।’
জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি এবং আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই জাতীয় সম্মেলনে শতাধিক জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সদস্য সরকার প্রধানের সামনে নিজেদের বুকের যন্ত্রণা, মনের ভাব তুলে ধরেন। এসময় সন্তান এবং স্বজন হারানোর শোকাতুর স্বজনদের চোখের পানি এবং দীর্ঘশ্বাসে গ্যালারিটি ভারী হয়ে ওঠে।
সকাল সোয়া ১০ টায় পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত এবং জাতীয় সংগীতের পর জুলাই আন্দোলনের ওপর প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
জাতীয় এই সম্মেলনের মূলমন্ত্র হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দেন।
এসময় শহীদ মিরাজের বাবা রব মিয়া, শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, জুলাই অভ্যুত্থানে আহত আল মিরাজ, এবং জুলাই যোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ঈমন প্রধানমন্ত্রী থেকে স্মারক গ্রহণ করেন। পরে উপস্থিত সকলের জন্যে রাখা স্মৃতি স্মারক তাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।
পরে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে স্মৃতি স্মারক তুলে দেয়া হয়।
জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে, জুলাই সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
এছাড়াও সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন