প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান উত্তেজনার পরিস্থিতিতে রাশিয়া সফরের পরিকল্পনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল। আগামী ১৪ ও ১৫ অক্টোবর তার এই সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উলোখিত হয়েছে। প্রতিবেদনে এফবিআই পরিচালকের সম্ভাব্য সফরকে অস্বাভাবিক এবং স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পলিটিকোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সফরের প্রথম গন্তব্য হতে পারে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো। এরপর প্যাটেল সেন্ট পিটার্সবার্গে যাওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।
তবে তার সফরের সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। কেবল এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের বৈঠক হবে কি না রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বা ক্রেমলিনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে, সেটিও নিশ্চিত নয়।
রাশিয়াসংক্রান্ত নানা বিতর্কিত ঘটনায় কাশ প্যাটেলের জড়িত থাকার ইতিহাস রয়েছে। এই ঘটনাগুলি শুরু হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে। এর মধ্যে ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রচারণার সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগ বা যোগসাজশ নিয়ে চলা তদন্তও রয়েছে। প্যাটেল ওই তদন্ত নিয়ে সন্দেহ তৈরির নানা প্রচেষ্টায় যুক্ত ছিলেন বলেও পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এখন তিনি এফবিআইয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সফরের পরিকল্পনা করছেন। এ কারণে কংগ্রেসে তার কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বেড়ে গেছে।
প্যাটেলের সম্ভাব্য সফরের খবর প্রকাশের পর রুশ সরকারের ঘনিষ্ঠ সংবাদপত্র মস্কোভস্কি কমসোমোলেতস এ নিয়ে মন্তব্য করেছে।
সংবাদপত্রের তথ্যানুসারে, রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা চাইতে গেলে এফবিআই পরিচালককে বিনিময়ে কিছু নিয়ে যেতে হবে। রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমির আরবাতভ ইনস্টিটিউট ফর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা স্টাডিজের গবেষক ভ্লাদিমির ভাসিলিয়েভ সংবাদপত্রটিকে জানিয়েছেন, রাশিয়ার কাছে ডেমোক্র্যাটদের সম্পর্কে কিছু গোপন তথ্য থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, এসব তথ্য সম্ভবত মার্কিন পক্ষকে দেওয়া হতে পারে—এমন একটি ধারণা রয়েছে। তবে ভাসিলিয়েভের এই মন্তব্য কোনো সরকারি তথ্য নয়, বরং তিনি সম্ভাব্য সফরের কারণ নিয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন।
ভাসিলিয়েভ আরো বলেছেন, আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও রাশিয়াকে দেওয়ার মতো কিছু থাকতে পারে। তার মতে, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জানতে চাইতে পারে, 'এর বিনিময়ে আমরা কী পাব?' তিনি আরও জানান, আলোচনা পর্বে কোনো নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী, সেটিও রুশ পক্ষ জানতে চাইতে পারে। ভাসিলিয়েভের রাশিয়ার আন্তর্জাতিক বিষয়ক পরিষদের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ।
পলিটিকোর প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, রাশিয়ার প্রধান নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি প্যাটেলের সফরের আয়োজক হতে পারে। এফএসবি সোভিয়েত আমলের কেজিবির উত্তরসূরি এবং এটি রাশিয়ার প্রধান অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা। তবে প্যাটেলের সফর সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তার সফরে রুশ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কী ধরনের বৈঠক হবে সেটিও স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বা ক্রেমলিনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্যাটেলের বৈঠক হবে কি না, সেটিও যে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই।
২০১৩ সালে রাশিয়ায় সরকারি সফর করা সর্বশেষ পরিচিত এফবিআই পরিচালক ছিলেন রবার্ট মুলার। পরে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে রাশিয়ার সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টি তদন্তে মুলারকে বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি একই সময়ে মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগও তদন্ত করেন। এই কারণেই প্যাটেলের সম্ভাব্য রাশিয়া সফরকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একদিকে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্ক এখনও উত্তেজনাপূর্ণ। অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে এফবিআইয়ের পুরানো তদন্তের ইতিহাসও বিদ্যমান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন