প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ বৃহস্পতিবার নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন হচ্ছে, যা কেবল তার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হবে। এ বিষয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি ঘোষণা দিয়েছে।
এই ঘোষণার পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে আসবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদি তিনি দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন, তাহলে সেটিই নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি হবে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ ভাগে যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি হামলায় আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি সেখানকার নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, এ বিষয়ে বিভিন্ন সূত্রের দাবি রয়েছে। সেই হামলার সময়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে টানা ৪০ দিনের সামরিক সংঘাত শুরু হয়।
তবে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাফন অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত থাকবেন, সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ফলে মোজতবা খামেনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিতে নেই। গত এক সপ্তাহ ধরে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে তার অনুপস্থিতি নিশ্ছিদ্র আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এ সময় তার ভাই মোস্তফা, মাসউদ এবং মেইসাম খামেনি পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন সর্বোচ্চ নেতার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ইসরায়েল থেকে প্রকাশ্য দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।
এফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর থেকে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে আত্মগোপনে রয়েছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেননি, এমনকি ভিডিও বা অডিও বার্তাও দেননি। তার সমর্থকদের উদ্দেশে জানানো সব বার্তা লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, গত এক সপ্তাহে ইরানসহ দুই দেশের পাঁচটি শহরে লাখো মানুষ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শোক মিছিলে অংশ নেন। দীর্ঘ এক সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় শোকসমাবেশ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলী খামেনির দাফন-পরবর্তী সময় ইরানের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ, অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য এবং আঞ্চলিক কূটনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে আসেন কি না এবং তার প্রথম বক্তব্যে কী বার্তা দেন, সেদিকে আন্তর্জাতিক মহল নজর রাখছে।
সূত্র: সিএনএন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন