প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান (তনু) হত্যা মামলায় কুমিল্লার আদালত সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। একই সঙ্গে, তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে, কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজাস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ প্রদান করেন। কুমিল্লার সরকারি কৌশুলি (পিপি) মো. কাইমুল হক রিংকু রাত সাড়ে ৮টায় কালের কণ্ঠকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া ব্যক্তিরা হলো, সাবেক সেনাসদস্য, তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান। তিনি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের গড়ঘাটা এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের সৈনিক শাহীন আলমও রয়েছেন। তারা দুজনই বর্তমানে দেশের বাইরে পলাতক অবস্থায় আছেন।
আদালত সূত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম কুমিল্লার আদালতে সন্দেহভাজন সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশনা চেয়ে একটি আবেদন করেন। একই আবেদনে তনু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কে সেনাবাহিনীর কাছে যদি তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য থাকে তবে সেটি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। সোমবার ছিল মামলাটির ধার্য তারিখ।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আজ আদালতে মামলাটির ধার্য তারিখ ছিল। তবে আমরা আজ কুমিল্লায় যাইনি। আদালত থেকে কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেটা এখনও জানতে পারিনি। আদালতের আদেশের কপি হাতে পেলে এ বিষয়ে কথা বলতে পারব।’
তিনি আরো বলেন, ‘সম্প্রতি তনু হত্যা মামলার নতুন তথ্য সামনে এসেছে।
ঘটনার পর তনুর পোশাক থেকে পাওয়া নমুনায় আরেকজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে চারজনের নমুনা মিলেছে। আগের তিনজনের শুক্রাণু পাওয়ার তথ্য সামনে এলেও নতুন করে তথ্য আসা ব্যক্তির রক্তের নমুনা তনুর পোশাকে মিলেছে।’
এদিকে, তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া হাফিজুর রহমানকে সোমবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এদিন আদালতে হাজির করা হলেও হাফিজুর রহমানের পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
হাফিজুর রহমান সাবেক সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ছিলেন। তিনি ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় হাফিজুর রহমান কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভিতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরবর্তীতে বহু খোঁজাখোঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের অদূরে একটি জঙ্গলে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তাঁর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
শুরুতে পুলিশ তদন্ত করলেও পরে মামলাটি ডিবি ও সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। কোনো সংস্থা দৃশ্যমান অগ্রগতি করতে না পারায় ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করা হয় সিআইডি থেকে। গত প্রায় চার বছর ধরে মামলাটির তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সবশেষ, ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির দায়িত্ব পান পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন