ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর দায়িত্ব ছাড়লেন স্কটল্যান্ডের কোচ


বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর দায়িত্ব ছাড়লেন স্কটল্যান্ডের কোচ

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে হারের পর নকআউটের দৌড়ে স্কটল্যান্ডের ক্ষীণ আশা ছিল, কিন্তু সেই আশা শেষ হয়ে যায় ঘানার বিরুদ্ধে ক্রোয়েশিয়ার ২-১ গোলের জয়ে। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পরপরই দলটির কোচ স্টিভ ক্লার্ক পদত্যাগ করেছেন।

স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এসএফএ) একটি বিবৃতির মাধ্যমে ক্লার্কের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে। অথচ কিছুদিন আগে তিনি স্কটল্যান্ডের সঙ্গে নতুন করে চার বছরের একটি চুক্তি সই করেছিলেন।

বিদায়ের ঘোষণায় ক্লার্ক বলেন, ‘এই বিদায়ের সবচেয়ে আবেগঘন অংশ হলো আমার খেলোয়াড়দের ছেড়ে যাওয়া। তাদের ছাড়া ২০১৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আমরা যে অসংখ্য স্মৃতি গড়ে তুলেছি, তা সম্ভব হতো না।’

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

তিনি আরও বলেন, ‘তারা যে প্রশংসা ও ভালোবাসা পায়, তার পুরোপুরিই তারা প্রাপ্য। তাদের কোচ হতে পারা আমার জন্য সত্যিই সম্মানের ছিল। আমাকে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ, এবং আমার উত্তরসূরির জন্য শুভকামনা।’

সাত বছর আগে, স্টিভ ক্লার্ক স্কটল্যান্ডের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এর আগে দলটি ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের পরে কোন বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারেনি। তাঁর অধীনে স্কটল্যান্ড টানা দুটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউরো) এবং এবারের বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করেছে।

তবে বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনের সফলতা সত্ত্বেও, তিনটি বড় টুর্নামেন্টেই স্কটল্যান্ড প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। চলতি মাসে হাইতির বিরুদ্ধে ১-০ ব্যবধানে জয়ই ছিল এই তিনটি টুর্নামেন্ট মিলিয়ে তাদের একমাত্র জয়।

স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী ইয়ান ম্যাক্সওয়েল ক্লার্কের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ায় আমরা সকলেই হতাশ। তবে স্টিভের সাত বছরের দায়িত্বকালে স্কটল্যান্ড যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে, তা ভুলে গেলে চলবে না।’

আরও পড়ুন: আজ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ, ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৬ পি.এম


সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে নাশকতা, ককটেল বিস্ফোরণ এবং সরকারবিরোধী মিছিলের অভিযোগে জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৮ জুন) দুপুরের দিকে ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুপুরের পরে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মহাখালী বাস টার্মিনাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল সরকার এই আবেদনটি করেন।

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৮ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণিতে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী অবৈধ মিছিল বের করেন। ঐ সময় তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নূর মোহাম্মদসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে।

নূর মোহাম্মদের হেফাজত থেকে বিভিন্ন পোস্টার, ব্যানার, একটি প্রেস কার্ড, ককটেল তৈরির সরঞ্জাম এবং ভিলেওন ব্র্যান্ডের একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ওই মোবাইল ফোনটিতে দুটি আইএমইআই নম্বর রয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, নূর মোহাম্মদ জামালপুরে দায়ের করা বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়া, ১৮ জুন রাজধানীর মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘটিত মিছিল এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায়ও তিনি সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে রয়েছেন। পরবর্তীতে তাকে ঐ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করার জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোনায় কৃষি প্রণোদনা বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৬ পি.এম


নেত্রকোনায় কৃষি প্রণোদনা বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

নেত্রকোনায় বোরো মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ফসল ডুবতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষকদের সরকারি প্রণোদনার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে সচ্ছল ও প্রভাবশালীদের স্বজনদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় জেলার কলমাকান্দা সহ হাওরের বিভিন্ন উপজেলায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রতিবাদে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ এবং বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করছেন।

ইতিমধ্যে, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কৃষকদের পক্ষ থেকে অসংখ্য লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলমাকান্দা উপজেলায় গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়ে নতুন ধরনের প্রশ্ন উঠেছে ভুক্তভোগীদের মধ্যে। কারণ, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সেই ইউপি চেয়ারম্যানদেরই রাখা হয়েছে তদন্ত কমিটিতে।

চলতি বোরো মৌসুমে অতিবৃষ্টি এবং জলাবদ্ধতায় নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলসহ প্রায় সব এলাকার বিস্তর ফসলি জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার হাওর উপজেলাসহ বিভিন্ন নিচু এলাকার মোট ১৬ হাজার ৮৭৭ হেক্টর জমির ধান পানিতে সম্পূর্ণ ডুবে রয়েছে। এর ফলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৭৭ হাজার ৩৬৩ জন কৃষক।

সরকার এই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মানবিক সহায়তা প্রদানে চালসহ আর্থিক অনুদান কর্মসূচির জন্য তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু এই তালিকা প্রকাশ হতেই দেখা দেয় বিপত্তি। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং একই ঘরের একাধিক জনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ ওঠে। এসব তালিকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং খোদ ব্লক পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নামও উঠে এসেছে।

গণস্বাক্ষর দিয়ে কলমাকান্দার পোগলা ইউনিয়নের দুই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নূর খান এবং শাহিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাবই গ্রামের ২০ জন উপকারভোগী কৃষকের মধ্যে ১৫ জনই কৃষি কর্মকর্তা শাহীনের নিজের আত্মীয়-স্বজন। তিনি নারীদের পাশাপাশি নিজের চাচাতো ভাইদেরও সরকারি সহায়তার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। গ্রামে থাকার সুবাদে নূর খান ও শাহিন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কৃষি বীজ, সারসহ সকল প্রকার সরকারি প্রণোদনায় এ ধরনের অনিয়ম করে চলে আসছেন।

এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন কার্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত কৃষি কর্মকর্তাদের পাওয়া যায়নি। তবে পরে প্রতিবেদন প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে যাতায়াত এবং অন্যান্য খরচ দেওয়ার নামে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত শাহিন। এ সময় তিনি প্রভাবশালীদের রেফারেন্স দিয়ে নিজের ক্ষমতার দাপট দেখানোর প্রচেষ্টাও করেন।

এদিকে কলমাকান্দার এসব অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন একটি তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে এই কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠে এসেছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৭ পি.এম


মুন্সীগঞ্জে ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পরিচালিত এক অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রবিবার দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, মুন্সীগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে উপজেলার ভাটেরচর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মনিটরিং ও অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালে ভাই ভাই জেনারেল স্টোরে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির উদ্দেশে প্রদর্শন ও সংরক্ষণ করার প্রমাণ মেলে। এ অপরাধের জন্য প্রতিষ্ঠানটির মালিক কামরুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া, আরিয়ান ট্রেডার্সে পণ্যের দাম তালিকা প্রদর্শন না করায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোজাম্মেল মোল্লাকে ২ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয় এবং দেলোয়ার স্টোরে একই অপরাধে মালিক মোস্তাকিম মোল্লাকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানটি পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, মুন্সীগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদ। এ সময় তাকে সহযোগিতা প্রদান করেন গজারিয়া উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ফারহানা খান এবং গজারিয়া থানা পুলিশের একটি দল।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর জানায়, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের বাজার তদারকি ও অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা বৃষ্টিতে চরম ঝুঁকিতে লাখো রোহিঙ্গা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৮ পি.এম


টানা বৃষ্টিতে চরম ঝুঁকিতে লাখো রোহিঙ্গা

বিশ্বের সর্ববৃহৎ রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড় ধসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে লাখো মানুষের জীবন। পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা বসতিগুলো বর্ষার টানা ভারী বৃষ্টিতে দিন দিন আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রতিবছরই পাহাড় ধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় শিবিরবাসীদের মনে বৃষ্টি নামলেই বাড়ছে নতুন আতঙ্ক।

তবে স্থানীয় প্রশাসন এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয় জানাচ্ছে, পাহাড় ধসের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং মেগাক্যাম্প বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির হিসেবে পরিচিত। এই আশ্রয়শিবিরের ৪ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড় কেটে খাড়া ঢালে গড়ে তোলা হয়েছে শত শত ঝুপড়ি ঘর। বর্ষার টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের বেলে মাটি নরম হয়ে ধসে পড়ছে। ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন স্থানে বালুভর্তি বস্তা ও ত্রিপল ব্যবহার করা হলেও পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না মাটির ধস। ফলে প্রতিটি ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা, আর চরম জীবনঝুঁকি নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন রোহিঙ্গারা।

ক্যাম্প-৪ এর বাসিন্দা মো. রফিক তাঁর আতঙ্কের কথা জানিয়ে বলেছেন, 'বৃষ্টি হলেই আমাদের বুকে কাঁপন ধরে, প্রচণ্ড ভয় লাগে। কারণ যেকোনো সময় ওপর থেকে পাহাড় ধসে পড়তে পারে। জীবন বাঁচাতে বৃষ্টির রাতে আমরা ঘুমাতে পারি না, সবাই জেগে থাকি।'

একই ক্যাম্পের বাসিন্দা সলিম উল্লাহ জানিয়েছেন, 'ভারী বৃষ্টি হলেই পাহাড় ধসে পড়ে। এটা প্রতিবছরই হয়ে আসছে। পাহাড়ের ওপর থাকি, ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সবসময় মরণের ভয়ে থাকি।'

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু ৪ নম্বর ক্যাম্প নয়, উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যে অন্তত ৮টি ক্যাম্প পাহাড় ধসের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ ও খাড়া ঢালজুড়ে গড়ে ওঠা অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে বাস করছেন এক লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। বর্ষায় টানা ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ায় তাঁদের উদ্বেগ এখন চরমে।

ক্যাম্প-৯ এর বাসিন্দা মরিয়ম খাতুন জানিয়েছেন, 'পাহাড়ের ওপর ঘর নির্মাণ করেছি। এখন পাহাড়ের ওপরেও ঘর, নিচেও ঘর। কোন সময় ওপরের ঘর ধসে নিচের ঘরের ওপর পড়বে, সেই ভয়ে থাকি।' একই ক্যাম্পের বাসিন্দা সিরাজ বলেছেন, 'আমাদের তো আর কোনো উপায় নেই। বৃষ্টি হলেই পাহাড় ধসের আশঙ্কায় দিন কাটে।'

ক্যাম্প-১০ এর সি ব্লকের বাসিন্দা দিলদার বেগম বলেছেন, 'ক্যাম্পের জীবন আমাদের জন্য অনেক কষ্টের। পাহাড়ের পাদদেশে চরম ঝুঁকিতে বাস করতে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে প্রতিবছরই পাহাড় ধসে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে এবং ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা খুবই ভয়ের মধ্যে আছি।'

একই ক্যাম্পের বাসিন্দা ছৈয়দ আলম উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, 'ক্যাম্পে তো জায়গা খুব কম, কিন্তু মানুষ অনেক বেশি। খুবই ঘনবসতি। এখন পাহাড়ের ঢালে না থেকে আমরা যাব কোথায়?'

ঘনবসতি ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানের কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পাহাড় ধসের পাশাপাশি জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও বাড়ছে। এই মানবিক ঝুঁকি মোকাবিলায় দুর্যোগ প্রস্তুতি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়াতে দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন সময় সংবাদকে বলেছেন, 'ক্যাম্পগুলো খুবই ঘনবসতিপূর্ণ এবং প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বাড়ছে। আমরা দেখছি অনেক মানুষ এমন জায়গায় বসবাস করছেন, যেখানে আসলে তাদের থাকা নিরাপদ নয়। কেউ পাহাড়ের বিপজ্জনক ঢালে থাকছেন, যেখানে ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে; আবার কেউ এমন নিচু এলাকায় থাকছেন, যা ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়ে যায়। এটি একটি বড় সমস্যা।'

তিনি আরও বলেছেন, 'আমরা দুর্যোগের জন্য প্রস্তুতি, আগাম সতর্কবার্তা এবং ঝুঁকি কমানোর বিভিন্ন কাজ করছি। আমরা দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই, যেন তারা এসব উদ্যোগে সহায়তা অব্যাহত রাখে। শুধু জরুরি সাড়ার জন্য নয়, ঝুঁকি কমানো এবং দুর্যোগ প্রতিরোধে আগে থেকে বিনিয়োগ করা জরুরি। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে প্রাণহানি ও ক্ষতি দুটোই কমানো সম্ভব।'

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, বর্ষার শুরু থেকেই ভূমিধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখার কাজ চলছে। প্রয়োজনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই প্রতিটি ক্যাম্পে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেছেন, 'ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোকে আমরা বিশেষ নজরদারিতে রেখেছি। ভারী বৃষ্টিপাত বেশি হলে বা পাহাড় ধসের লক্ষণ দেখা দিলে বাসিন্দাদের অস্থায়ী নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হবে। গত বছরও এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে, এবারও তা করার জন্য আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা প্রস্তুত রয়েছে।'

উল্লেখ্য, গত ৮ বছরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পাহাড় ধসের পৃথক ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গার প্রাণহানি ঘটেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%