প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকার যখন সারা দেশে পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, ঠিক তখনই সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের দুটি সেতু নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে দেখা গেছে চরম অনিয়ম ও সরকারি সম্পদ নয়ছয়ের অভিযোগ। সেতু দুটির নির্মাণকাজ চলাকালে রাস্তার দুপাশের বেশ কয়েকটি মূল্যবান সরকারি গাছ নিয়ম-কানুন তোয়াক্কা না করেই কেটে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে শ্রমিকদের দিয়ে অবাধে রাস্তার দুই পাশের বেশ কয়েকটি গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। গাছ কাটার কারণ ও অনুমতি সম্পর্কে জানতে চাইলে শ্রমিকরা জানান, ঠিকাদারের নির্দেশেই তারা এসব গাছ কাটছেন এবং কাটা কাঠ ঠিকাদার নিজেই নিয়ে যাবেন।
তবে এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। গাছ কাটার বৈধ কাগজপত্র বা টেন্ডারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মুঠোফোনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং 'সাক্ষাতে বসে কথা বলবেন' বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
সরকারি আইন অনুযায়ী, সড়ক বা সরকারি জায়গার যেকোনো গাছ কাটতে হলে প্রথমে নিয়ম মোতাবেক মূল্য নির্ধারণ করে উন্মুক্ত টেন্ডার বা নিলাম আহ্বান করতে হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল নির্ধারিত গাছ কাটার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনো ধরণের টেন্ডার শিডিউল বা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই লাখ টাকার সরকারি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সখিনা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এভাবে গাছ কাটার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিভাবে বা কার অনুমতিতে গাছগুলো কাটছে—সে বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কাছে খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
টেন্ডার ছাড়া প্রকাশ্যে সরকারি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা অবিলম্বে এই অবৈধ গাছ কাটা বন্ধ করে দায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন