প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা সমর্থন জানাতে হলেও তা বাস্তবায়ন করার স্বাধীন আইনি এখতিয়ার নিউইয়র্ক নগর প্রশাসনের নেই, এমন তথ্য দিয়েছেন সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি নিউইয়র্ক সিটির আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
গত বছর মেয়র নির্বাচনের প্রচারণাকালে মামদানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তার প্রশাসন আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করবে। চলতি মাসের শুরুও তিনি জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহুর সফর হলে তাকে গ্রেপ্তারের কোনো আইনি সুযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু আইনগতভাবে সব পথ পর্যালোচনা করার পর মঙ্গলবার মামদানি জানান, গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার স্বাধীন কোনো ক্ষমতা সিটি প্রশাসনের নেই।
মামদানি বলেছেন, তাদের প্রশাসন প্রচলিত আইনের অধীনে সকল দিক দেখে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, গ্রেফতারি পরোয়ানাটি কার্যকর করার ক্ষমতা শুধুমাত্র মার্কিন ফেডারেল সরকারের হাতে আছে। তিনি ফেডারেল সরকারকে আইসিসিতে যোগ দিয়ে এই পরোয়ানা কার্যকর করার জন্য আহ্বান জানান।
প্রক্রিয়াগতভাবে, নেতানিয়াহু আইসিসির কোনো সদস্য দেশে গেলে তাকে গ্রেফতার করে হেগের আদালতে হস্তান্তর করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়। এছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে নেতানিয়াহুকে কোনো অবস্থাতেই গ্রেফতার করা হবে না।
মার্কিন প্রশাসনের এই অবস্থান এবং সিটির আইনি সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তার নৈতিক অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মামদানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক সিটিতে নেতানিয়াহুকে স্বাগত জানানো হবে না। নিউইয়র্ক টাইমসে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী এবং তার আসল স্থান হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে হওয়া উচিত।
উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৪ সালের মে মাসে গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। তবে, ইসরায়েল এই অভিযোগগুলো নাকচ করে আসছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারও এই পরোয়ানার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন