প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর যৌথ নৌ মহড়া শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে, উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন তাঁর দেশের নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত বাহিনীতে রূপান্তরের অঙ্গীকার করেছেন। সোমবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশিত হয়।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এই নৌ মহড়া ২০২৩ সালে শুরু হয়। কর্মকর্তারা তখন উল্লেখ করেছিলেন যে, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক হুমকি মোকাবেলা এবং দেশটিকে নিবৃত্ত করার উদ্দেশ্যে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।
রোববার, বন্দরনগরী ওয়ানসানে ‘ক্যাং কন’ নামক একটি যুদ্ধজাহাজের আনুষ্ঠানিক নৌবহরে অন্তর্ভুক্তির অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কিম। ২০২৫ সালের মে মাসে পানিতে নামানোর সময় জাহাজটি আংশিকভাবে কাত হয়ে পড়েছিল। উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কিম বলেন, “আমাদের নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত বাহিনীতে পরিণত করার মাধ্যমে পারমাণবিক যুদ্ধব্যবস্থাগুলোর বৈচিত্র্যময় ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রকৃত যুদ্ধের পরিস্থিতিতে এগুলো পরিচালনা করা যায়।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যেকোনো সময় নির্দেশ পেলেই নতুন প্রজন্মের এই ডেস্ট্রয়ার শত্রুর বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী পাল্টা আঘাত হানবে। কারণ, এটি রাষ্ট্রের পারমাণবিক পাল্টা আঘাত ব্যবস্থার একটি অংশ।”
প্রকাশিত ছবিতে কিম জং উনকে তাঁর মেয়ে জু আয়ের সঙ্গে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাবার পর উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বের দায়িত্ব তাঁর হাতেই যেতে পারে।
গত জুলাইয়ে কিম ‘কাং কন’-এর একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম তদারক করেন। গত বছর পানিতে নামানো ৫ হাজার টন শ্রেণির দুটি যুদ্ধজাহাজের একটি হলো ‘কাং কন’। জাহাজটি পানিতে নামানোর সময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এক বছরের কিছু বেশি সময় পর এর পরীক্ষা করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম উল-চুল মন্তব্য করেন, কিমের ‘পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত নৌবাহিনী’ গড়ার বক্তব্য থেকে ধারণা পাওয়া যায় যে, এসব যুদ্ধজাহাজ কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
কিম আরও জানান, উত্তর কোরিয়া নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করছে, যার ফলাফল আগামী আট মাসের মধ্যে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করা হবে।
অধ্যাপক লিমের মতে, এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম) বহনে সক্ষম নতুন কোনো সাবমেরিনের মতো বড় ধরনের কৌশলগত অস্ত্র বা সামরিক সক্ষমতা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে— এমন ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।
লিম আরও বলেন, ‘কাং কন’কে পূর্ব সাগরে মোতায়েনের মাধ্যমে পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের যৌথ নৌ মহড়া এবং পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সামরিক সম্পদের সরাসরি আঘাতের আওতায় রাখার চেষ্টা করছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার এবারের যৌথ নৌ মহড়ার নাম ‘ফ্রিডম এজ’। দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলা এই মহড়া শুক্রবার পর্যন্ত চলবে।
উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আবারও কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর চেষ্টা করছেন। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আরেকটি সামরিক মহড়ার পরিসর কমিয়ে দিয়েছেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এখনও তেমন সাড়া মেলেনি। বরং পিয়ংইয়ং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার কমিয়ে আনা সামরিক মহড়ার সমালোচনা করেছে।
এছাড়া, দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন এবং উত্তর কোরিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য নথিভুক্ত করার কর্মসূচিতে অর্থায়নের পরিকল্পনারও নিন্দা জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন