প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের সমুদ্রের বরফ দ্রুত কমছে। এর কারণে, যেসব এলাকায় বরফ থাকার কারণে আগে তিমি যেতে পারত না, এখন সেসব এলাকায় তারা খাবারের সন্ধানে যাচ্ছে।
দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণায় বিজ্ঞানীরা পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের উপকূলে হাম্পব্যাক, ফিন ও মিঙ্কি তিমির উপস্থিতির রেকর্ড করেছেন। গ্রীষ্মকালে, বরফমুক্ত সমুদ্রের কারণে এসব তিমিকে প্রচুর খাবার খেতে দেখা যাচ্ছে। পূর্বে দিতে গ্রীনল্যান্ডের এই এলাকায় তিমিদের দেখাই পাওয়া যেত না, কারণ সমুদ্রের পানি বরফে ঢাকা থাকায় তিমিগুলোর প্রবেশের সুযোগ ছিল না।
এখন, সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ছে এবং বরফ গলতে শুরু করেছে। এর ফলে তিমিগুলো নতুন নতুন এলাকায় যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাকে গ্রীষ্মকালের ‘খাবারের উৎসব’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, এটি পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের সমুদ্র পরিবেশে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, ২০০৬ সালের আগে ওই এলাকায় জাহাজ থেকে কোনো হাম্পব্যাক তিমি পাওয়া যায়নি। ২০০৭ সালে সাতটি হাম্পব্যাক তিমি দেখা যায়। কিন্তু ২০২৪ সালে, সেই সংখ্যা বেড়ে গিয়ে জাহাজ থেকে ১৫০টি হাম্পব্যাক তিমির উপস্থিতির রেকর্ড করা হয়েছে।
গবেষকরা ২০১৫ ও ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের উপকূলে আকাশপথে তিমির ওপর জরিপ করেছেন। পাশাপাশি, স্যাটেলাইটে নজরদারি করা ১৫টি আকৃতি তিমির চলার পথের তথ্য এবং স্থানীয় ইনুইট শিকারিদের তথ্যও গবেষণার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে গ্রিনল্যান্ড সাগরে প্রায় ৪ হাজার হাম্পব্যাক, ৬ হাজার ফিন এবং ৬ হাজার মিঙ্কি তিমি এসেছিল। গ্রিনল্যান্ড ইনস্টিটিউট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসের অধ্যাপক ম্যাডস পিটার হাইডে-জর্গেনসেন বলেছেন, উপমেরু অঞ্চলের অন্যান্য অনেক জায়গার তুলনায় পূর্ব গ্রিনল্যান্ডে পরিবেশের পরিবর্তন অত্যন্ত বড়।
গবেষকদের মতে, সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং খাবার সহজলভ্য হওয়ায় তিমিগুলো এসব এলাকায় আসছে। ধারণা করা হচ্ছে, উষ্ণ পানির সঙ্গে পূর্ব গ্রিনল্যান্ডে চলে আসা মাছ শিকার করে এই তিমিগুলো।
গবেষকদের হিসাবমতে, গ্রীষ্মের খাদ্য মৌসুমে এই তিন প্রজাতির তিমি মিলে প্রায় ৮ লাখ টন মাছ ও ক্রিল খেতে সক্ষম হয়। তবে, তিমির সংখ্যা সত্যিই বেড়েছে কি না, নাকি অন্য এলাকা থেকে তিমিগুলো পূর্ব গ্রিনল্যান্ডে চলে আসায় সেখানে বেশি দেখা যাচ্ছে, তা এখনো নিশ্চয়তা নেই।
কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, তিমিগুলো পশ্চিম গ্রিনল্যান্ড থেকে পূর্ব দিকে আসছে। এটি একটি সংবেদনশীল বিষয়, কারণ গ্রিনল্যান্ডে কিছু প্রজাতির তিমি শিকার করা হয়। তবে গবেষকদের মতে, তিমিগুলো পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে এবং নতুন পরিস্থিতি থেকে সুবিধাও পাচ্ছে।
অধ্যাপক হাইডে-জর্গেনসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে সব প্রাণীর জন্য একসাথে একই প্রভাব ফেলছে না। কিছু প্রজাতির জন্য এটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে কিছু প্রাণী তাদের পুরনো আবাসস্থল হারাচ্ছে। নারহোয়াল ও বেলুগাসহ আর্কটিকের বিভিন্ন প্রাণীও এই পরিবর্তনের প্রভাবের মুখে পড়ছে। নতুন এলাকায় তিমির সংখ্যা বাড়ায় এসব প্রাণীর মধ্যে খাবার ও আবাসস্থল নিয়ে প্রতিযোগিতাও বৃদ্ধি পেতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন