প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম, ১২ আগস্ট, ২০২৬: চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনটি নির্দেশনা জারি করেছে। বন্দরসীমা, বহির্নোঙরে জাহাজের নিরাপত্তা, অননুমোদিত নৌযান চলাচল এবং অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল স্থাপনের কারণে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই কারণেই সংস্থাটি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ‘চট্টগ্রাম বন্দরসীমায় নৌ-নিরাপত্তা জোরদার, বহির্নোঙরসহ বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট এণ্ড ইনফরমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ জোরদারের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় টহল, নজরদারি, সমন্বয় ও সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, পুলিশ, নৌপরিবহণ অধিদপ্তর, মার্কেন্টাইল মেরিন অফিস এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অনুরোধ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টদের ওয়াচম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ওয়াচম্যান বুকিং সেল-এর সুপারিশ ও অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলকভাবে নিশ্চিত করতে হবে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বন্দর কর্তৃপক্ষের তিনটি নির্দেশনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- (১) চট্টগ্রাম বন্দরসীমা ও বহির্নোঙরে অবস্থানরত সব জাহাজে আইএসপিএস কোড এবং প্রচলিত বন্দর নিরাপত্তা বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। জাহাজ বহির্নোঙরে আগমনের পর থেকেই সার্বক্ষণিকভাবে অ্যাঙ্কর ওয়াচসহ ভিএইচএফ চ্যানেল ১৬ এবং ১২-তে মনিটরিং, নিয়মিত ডেক পেট্রোল এবং পর্যাপ্ত সিকিউরিটি লাইটিং বজায় রাখতে হবে। পোর্ট কন্ট্রোলের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো অননুমোদিত নৌযান, ফ্রেশ ওয়াটার বার্জ, সার্ভিস বোট বা অন্যান্য নৌযান জাহাজের পাশে ভিড়তে পারবে না। কোনো সন্দেহজনক নৌযান, ব্যক্তি বা নিরাপত্তাজনিত ঘটনা পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে পোর্ট কন্ট্রোল এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে জানাতে হবে।
(২) বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পর্যাপ্তসংখ্যক প্রশিক্ষিত ও অনুমোদিত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ওয়াচম্যান বুকিং সেল থেকে ওয়াচম্যান নিয়োগের জন্য জাহাজের মাস্টার ও শিপিং এজেন্টকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করা হয়। নিযুক্ত ওয়াচম্যানদেরকে জাহাজের নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে হবে।
(৩) চট্টগ্রাম বন্দরসীমা, প্রবেশপথ এবং বহির্নোঙর এলাকায় অবৈধভাবে মাছ ধরা, মাছ ধরার জাল স্থাপন অথবা ফিশিং বোট দ্বারা নৌ-চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এই ধরনের কার্যকলাপ জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার জন্য মহৎ ঝুঁকি সৃষ্টি করে এবং দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন