প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ছোট-বড় মিলিয়ে কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে অন্তত আটটি নদ-নদী। এসব নদীর সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকা ও চলাচল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আবার এই নদীতে হরহামেশাই ঘটছে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা। অথচ এমন একটি জেলায় ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব কোনো প্রশিক্ষিত ডুবুরিদল নেই।
ফলে নদীতে কেউ নিখোঁজ হলে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের খুলনা থেকে ডুবুরিদল আসার জন্য স্বজনদের অপেক্ষা করতে হয়। ফোন বা বার্তা পেয়ে দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পেরিয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ সময়। এতে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে যাওয়ার পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।
আগস্ট মাসেই কুষ্টিয়ার বিভিন্ন নদীতে ডুবে অন্তত ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ঘটনায় স্বজনদের ও ফায়ার সার্ভিসকে ডুবুরি দলের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। সর্বশেষ তেমনই একটি ঘটনা ঘটে গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ভাগজোত ঘাটে।
এদিন পদ্মা নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় মাদ্রাসাছাত্র মোস্তাকিম হোসেন (১২)। স্থানীয়রা এ সময় এক শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করে। তবে মোস্তাকিমকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কুষ্টিয়ায় নিজস্ব কোনো ডুবুরি দল না থাকায় ওই দিন উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়।
মোস্তাকিমের মা শিউলি খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে ছুটির দিনে বন্ধুদের সঙ্গে নদীর পাড়ে খেলতে গিয়ে ডুবে গেল। এখনো ছাওয়ালটার খোঁজ পেলাম না। খুলনা থেকে লোক আসবে, তারপর উদ্ধার হবে এই অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।’ পরে খুলনা থেকে ডুবুরি দল পৌঁছালে শনিবার সকালে পদ্মা নদী থেকে মোস্তাকিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সামাজিক সংগঠন ‘মানুষ মানুষের জন্য’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাহাব উদ্দীন মিলন বলেন, ‘যে জেলায় পদ্মা ও গড়াইয়ের মতো প্রমত্ত নদী রয়েছে, সেখানে স্থায়ী ডুবুরি দল না থাকা হতাশাজনক। অবিলম্বে কুষ্টিয়া জেলায় স্থায়ী ডুবুরি দল নিয়োগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর ফায়ার স্টেশনে প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চিত করা দরকার।’
পদ্মাপাড়ের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘নদীতে কেউ নিখোঁজ হলে স্বজনেরা একদিকে প্রিয়জনকে হারানোর শঙ্কায় থাকেন, অন্যদিকে কখন উদ্ধারকারী দল আসবে, সেই অপেক্ষাও করতে হয়। স্থানীয়রা নৌকা, জাল ও দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও আধুনিক সরঞ্জামের বিকল্প তারা হতে পারেন না।’
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন বলেন, ‘কুষ্টিয়ায় নৌ-দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেশি। জেলা পর্যায়ে আলাদা ডুবুরি দল না থাকায় বিভাগীয় শহর খুলনার ওপর নির্ভর করতে হয়। খবর পাঠালে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাদের কুষ্টিয়া এসে পৌঁছাতে ৬-৮ ঘণ্টা সময় লাগে। প্রতিটি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে খুলনার ডুবুরি দলের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে আমাদেরকে জনগণের তোপের মুখে পড়তে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘জেলার ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ডুবুরি দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন