প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গুণী মানুষদের সম্মান জানাতে পারলে বাংলাদেশের জনগণ শুধু নিজেদের জন্য নয়, বরং একটি গর্বিত জাতি হিসেবে উন্নীত হতে পারবে, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।
এসময় তিনি আগামী দিনে বাংলাদেশে গুণী মানুষদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার জন্যও আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবে বুধবার দৈনিক ইত্তেফাক ও দিনকালের সাবেক সম্পাদক আখতার উল আলমের স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় মঈন খান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি।
আখতার উল আলমের স্মৃতিচারণ করে মঈন খান বলেন, এমন একটি সময় ছিল, যখন সাংবাদিকদের জন্য সত্য কথা লিখতে নিজের নাম উল্লেখ করে লেখা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সেই কারণেই আখতার উল আলম ‘লুব্ধক’ ছদ্মনামে লিখতেন। ‘লুব্ধক’ একটি ছদ্মনাম নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটি কৌশল ছিল। তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে লেখালেখি করতেন। তার লেখায় উদারচেতা বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটেছে। পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ভূরাজনীতি, কূটনীতি ও বৈদেশিক অর্থনীতি নিয়েও নিয়মিত লিখতেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আখতার উল আলমের ভূমিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাকে ক্যান্টনমেন্টে বন্দি হতে হয়েছিল। তিনি স্বাধীনতার পক্ষে একজন দৃঢ় অবস্থানে ছিলেন। সেই সময় অনেকেই প্রতিবাদ করার সাহস দেখাতে পারেনি।
সাংবাদিকতার বাইরেও ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আখতার উল আলমকে বাহরাইনস্থ বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, তিনি সফলতার সঙ্গে ওই দায়িত্ব পালন করেন। রংপুরের মিঠাপুকুরে ১৯৩৯ সালে জন্ম নেওয়া আখতারুল আলম পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও কূটনীতির ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন বলেও জানান তিনি।
দেশ ও দেশের মানুষের জন্য যারা অবদান রেখেছেন, তাদের অনেক বরেণ্য মানুষকে স্মরণ করা হয় না, এমন মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ।
তিনি বলেন, তাদের মর্যাদা দিয়ে স্মরণ করা উচিত। জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের আমরা স্মরণ করি না। শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জন্য কি রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো অনুষ্ঠান হয়ে থাকে? শুধু টেলিভিশন বা সংবাদপত্রে বিবৃতি দেওয়া হয়। যে জাতি তার বীর ও পথপ্রদশকদের স্মরণ করতে পারে না, সেই জাতি সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে আগামীর পথে এগোতে পারে না।
সরকার ও রাষ্ট্রের কাছে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশের মহৎ পুরুষ ও অগ্রগামী মানুষদের ইতিহাস, তাদের কর্মকাণ্ড ও সংগ্রাম যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পারি, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বরেণ্য মানুষদের স্মরণ করার জন্য একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠার দাবিও জানান তিনি।
জাতীয় পর্যায়ে একটি তথ্যভাণ্ডার গঠনের প্রস্তাব রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, সাংবাদিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট বিদগ্ধ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এর ফলে দেশের কৃতি ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপকৃত হবে।
স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন