প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইরানের সঙ্গে তার করা চুক্তিটি ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার করা চুক্তির চেয়ে ভালো। তবে, ট্রাম্পের সমালোচকরা বলছেন, এই পর্যায়ে তিনি তেহরানকে অনেক বেশি ছাড় দিয়েছেন এবং অনেক কম পেয়েছেন।
বুধবার স্বাক্ষরিত ১৪-দফা কাঠামোতে ইরান নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল পুনরায় চালুর বিনিময়ে পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা উন্নয়ন থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বুধবার ফ্রান্সে জি৭ বৈঠকের ফাঁকে দেয়া মন্তব্যে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তিটিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মধ্যস্থতায় ২০১৫ সালে হওয়া জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামে পরিচিত চুক্তির চেয়েও ভালো বলে প্রশংসা করেছেন, যে চুক্তি থেকে ট্রাম্প ২০১৮ সালে তার প্রথম মেয়াদে সরে এসেছিলেন।
তবে, বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই মুহূর্তে ওবামার চেয়ে ট্রাম্পের এই চুক্তিটি ভালো কিনা তা বলার সময় এখনও আসেনি। তাদের ভাষায়, ট্রাম্পের সমঝোতা স্মারকটি যা ৬০ দিনের আলোচনার সূচনা করবে এবং তা ওবামার আমলের ১৮ পৃষ্ঠার দলিল থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন কোনো ব্যাপক চুক্তিতে পরিণত হবে কিনা, তা নির্ধারণ করার সময় এখনও আসেনি। ওই দলিলটি নিয়ে আলোচনা করতে বেশ কয়েক বছর লেগেছিল এবং এতে পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের মতামতও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
যুক্তরাজ্যের চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো আনিসেহ বাসিরি তাবরিজি আল জাজিরাকে বলেছেন, এই পর্যায়ে দুটির তুলনা করা ন্যায্য হবে না, কারণ সমঝোতা স্মারকটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বিস্তারিতভাবে মোকাবেলা করার পরিবর্তে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ওপর বেশি মনোযোগ দিয়েছে।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের ডিকিন ইউনিভার্সিটির মিডল ইস্ট স্টাডিজ ফোরামের পরিচালক শাহরাম আকবরজাদেহ বলেছেন, সমঝোতা স্মারকটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে না। এটি কেবল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সংক্রান্ত সমস্ত প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার জন্য ছেড়ে দিয়েছে।
এদিকে, জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এগুলো খুব আলাদা। ট্রাম্প ইরানের সাথে যে ‘সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষর করেছেন, তা কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়, বরং এটি দেড় পৃষ্ঠার একটি ১৪-দফা কাঠামো, যা কয়েক সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে আলোচনার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে।
প্রায় চার মাস ধরে চলা যুদ্ধের একটি পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এটি ৬০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরু করেছে, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ-এর মতো বিষয়গুলোতে এখনও অনেক বাধা অতিক্রম করতে হবে।
এদিকে, ওবামার চুক্তিটি ছিল জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন (জেসিপিওএ) শিরোনামের একটি সম্পূর্ণ ও বিস্তারিত দলিল, যা ১৬০ পৃষ্ঠারও বেশি দীর্ঘ ছিল। কঠোর মানদণ্ডসহ এটি ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করার ওপর বিশেষভাবে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিল। ট্রাম্প, যিনি ওবামা আমলের এই চুক্তিকে ভয়াবহ বলে নিন্দা করেছিলেন, ২০১৮ সালে এটি বাতিল করে দেন।
ট্রাম্পের পদ্ধতিটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক। আর ওবামা চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নকে প্রায় দুই বছর ধরে চলা আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
সূত্র: আল জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন