প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল সদর উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসন ও মৃতপ্রায় লাকুটিয়া খালসহ অন্যান্য খাল পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ হওয়া কোটি কোটি টাকা কোনো কাজ ছাড়াই রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত এসব অর্থ ব্যবহার না করেই ফেরত দেওয়ায় চরম প্রশাসনিক উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক ও সচেতন মহল।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘ইজিপিপি’ প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার দুটি খাল খননের জন্য মোট ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ‘মরখোলার পোল থেকে ঝড়ঝড়িয়াতলা বাজার হয়ে মাঝি বাড়ির ব্রিজ’ পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার খাল খননের জন্য বরাদ্দকৃত ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকার পুরোটাই অব্যবহৃত অবস্থায় ফেরত পাঠিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফরিদা সুলতানা। এছাড়া চরবাড়িয়া ইউনিয়নের আরেকটি খালের প্রকল্পে ৭৭ লাখ ২৮ হাজার টাকার মধ্যে প্রায় ৬৮ লাখ টাকাই কাজ না করে ফেরত পাঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খাল দুটি ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষা মৌসুমে তীব্র জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ ব্যবস্থার চরম সংকট দেখা দেয়। সরকারি বরাদ্দ আসার পরও তা কাজে না লাগিয়ে ফেরত পাঠানোয় এলাকার কৃষি, পানি প্রবাহ ও মৎস্য খাতের উন্নয়নের বড় সুযোগ হাতছাড়া হলো। জেলার অন্যান্য উপজেলায় প্রকল্পের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হলেও সদর উপজেলায় কেন হলো না, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফরিদা সুলতানার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ছুটিতে থাকায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুন খন্দকার জানান, তিনি সম্প্রতি জেলায় যোগদান করেছেন। তিনি বলেন, "কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ কেন বাস্তবায়ন করা গেল না এবং টাকা ফেরত পাঠানো হলো— সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।" এছাড়া লাকুটিয়া ও জেল খাল পুনরায় খনন ও সংস্কার নিয়ে তার নিজস্ব বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে, যা খুব শিগগিরই বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন