প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মিডিয়াপাড়ায় দৌড়ঝাঁপ করেও যখন অনুসন্ধানী টিম ‘তালাশ বিডি’কে থামানো গেল না, ঠিক তখনই নতুন ও ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে বরিশাল নগরীর আলোচিত ছাত্রলীগ নেতা শাওন ও তার চক্র। গোপন সোর্স মারফতে পাওয়া খবরে জানা গেছে, এই বিতর্কিত সিন্ডিকেট এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া ছবি বানিয়ে সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামকে দমানো ও সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টায় নেমেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই ছাত্রলীগ নেতা শাওন। অপরদিকে তার চাচা কালাম খান (কালাম মেম্বার) সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের বলয় কাজে লাগিয়ে পুরো কর্নকাঠি এলাকা এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করত। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা মেয়াদে পুরো কর্নকাঠি অঞ্চলে জমি দখল, ব্যাপক চাঁদাবাজি এবং অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা একচ্ছত্রভাবে পরিচালনা করার মূল অভিযোগ রয়েছে এই চাচা-ভাতিজা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
গুরুতর বিষয় হলো, কালাম মেম্বারের বিরুদ্ধে মোকাম বরিশাল বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (দ্রুত বিচার) আমলী আদালতে গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) রয়েছে। তিনি আদালতের একজন ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শাওনের বড় ভাই সাইফুল এবং অনিক সেরনিয়াবাতকে সাথে নিয়ে কর্নকাঠি ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল তারা। কোনো সাধারণ মানুষ সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিলেই চড়াদামে বালু ভরাট করতে বাধ্য করা হতো। তাদের দাবিকৃত চাঁদা বা বালু ভরাটের শর্ত না মানলে নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী দিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে চূড়ান্ত হয়রানি করা হতো। আওয়ামী লীগ শাসনামলে কর্নকাঠি এলাকায় এরা ‘অঘোষিত গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত ছিল। এছাড়া কালাম মেম্বার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্থানীয় বিচার-সালিসের নামে সাধারণ মানুষের সাথে নিয়মিত অন্যায়, অবিচার ও চরম পক্ষপাতিত্ব করত বলে মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলেও কর্নকাঠি এলাকায় কালাম মেম্বার ও শাওন সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা বন্ধ হয়নি। এলাকাটিকে তারা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গোপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে। স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বরিশাল নগরীতে গভীর রাতে হঠাৎ যেসব ঝটিকা মিছিল বের করা হয়, তার সব পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত ও সরকারবিরোধী নানা চক্রান্ত কর্নকাঠিতে বসেই সম্পন্ন হয়।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো—আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি হওয়া এবং প্রকাশ্যে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার পরও স্থানীয় বন্দর থানা পুলিশ কালাম মেম্বার ও শাওনকে আইনের আওতায় আনতে রহস্যজনকভাবে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এহেন নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর মধ্যে।
অবাধে সরকারবিরোধী তৎপরতা ও অপরাধ কর্মকাণ্ড চললেও থানা পুলিশ কেন তাদের ধরছে না—এ বিষয়ে জানতে বন্দর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্টো উদাসীনতা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, চাচা-ভাতিজার সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র কিংবা কোনো অপরাধের বিষয়ে তিনি নাকি কিছুই জানেন না! শুধু তা-ই নয়, অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, "আপনারা কীভাবে জানলেন?"
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তখন স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও বিশ্বস্ত সূত্রের ওপর ভিত্তি করেই সংবাদটি প্রকাশ করা হচ্ছে। আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির বিষয়ে এমন রহস্যজনক আচরণ এবং অপরাধীদের না জানার ভান করার মানসিকতা দেখে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন—অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করে থানা পুলিশ কি তবে তাদের প্রধান 'রক্ষাকবচ' বা ঢাল হিসেবে কাজ করছে?
বিষয়টির সত্যতা ও অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা শাওনের হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত খুদে বার্তা (Message) পাঠানো হলেও সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত তিনি কোনো উত্তর দেননি।
অপরদিকে, আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি কালাম মেম্বারের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনিও ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
আদালতের ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও এবং প্রকাশ্যে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও পুলিশের চরম ব্যর্থতা ও অশুভ প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাংবাদিকদের হয়রানিকারী এই প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার মো. আব্দুল হান্নান কী কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন