প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পরে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাশিয়ার ওরস্ক শহরের একটি প্রধান তেল শোধনাগারটি পুরোপুরি বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গত দুদিনের আগের হামলায় শোধনাগারটির এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বিদেশী যন্ত্রাংশ এবং পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এটি ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে, এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন স্থানীয় আঞ্চলিক গভর্নর। এই অবস্থার সরাসরি প্রভাবে ওরেনবার্গ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানিসংকট, যা যানবাহনচালকদের জন্য সীমাহীন ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ওরেনবার্গ অঞ্চলের গভর্নর ইয়েভগেনি সোলন্তসেভ তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানান, ইউক্রেনীয় হামলায় দ্রুততার সাথে ধেয়ে আসা স্প্লিন্টারের আঘাতের ফলে শোধনাগারটির কিছু মূল অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা এখন মেরামত করা সম্ভব নয়। ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে এগুলোর মেরামত কাজ সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ ছয় মাস সময় লাগতে পারে। বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী প্ল্যান্টটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।
গভর্নর আরও বলেন, আমরা সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং এই পরিস্থিতিতে আমাদের অঞ্চলের বাইরের উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করতে হবে।
ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, গত মঙ্গলবার তারা মস্কো থেকে ১,৪৭০ কিলোমিটার (৯১৫ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে কাজাখস্তান সীমান্তের কাছে এই ওরস্ক শোধনাগারে সফল আক্রমণ চালিয়েছে, যার ফলে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। বার্ষিক ৬০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিশালাকার কারখানাটিতে মোটর পেট্রল, ডিজেল, অ্যাভিয়েশন ফুয়েল (উড়োজাহাজের জ্বালানি), ফুয়েল অয়েল, বিটুমিনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করা হতো। ২০২২ সালে রাশিয়া কর্তৃক শুরু করা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আর্থিক এবং কৌশলগত মূল্য বৃদ্ধি করার কৌশল হিসেবে চলতি বছরে ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগারকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে, যা রাশিয়াজুড়ে ব্যাপক জ্বালানিসংকট সৃষ্টি করছে।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গভর্নর সোলন্তসেভ জানান, বর্তমানে অঞ্চলটির ২৮৭টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৮০ শতাংশ চালু আছে এবং অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ ও অন্যান্য জরুরি সেবায় নিয়োজিত বিশেষ যানবাহনকে জ্বালানি প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাম্পগুলোর কাছে চালকদের অতিরিক্ত ভিড় এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি সব স্থানে সহজ নয় বলে স্বীকার করলেও এটি এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে বলছেন গভর্নর সোলন্তসেভ, তিনি অঞ্চলের প্রতিটি চালককে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন