প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের নেছারাবাদে যুব সমাজকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে সুস্থ বিনোদন ও ক্রীড়াচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে একটি ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন হিসেবে ঐতিহাসিক কলার ভেলা বাইচ ও সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের উড়িবুনিয়া সংলগ্ন বেলুয়া নদীর তীরে ১০ম কলার ভেলা বাইচ ও সাঁতার প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা হয়। এতে শত শত দর্শকের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন “শেষ ঠিকানা”, এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিল স্থানীয় যুবসমাজ। সুলতান মাহমুদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বয়সী প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করে, যা দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের শিল্পবিষয়ক সম্পাদক নরুল আলম বিপ্লব, বিরুলিয়া ইউনিয়নের বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, ‘সবার আগে বলদিয়া’ টিমের সভাপতি মো. মাসুদ পারভেজ এবং শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. কিবরিয়া।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এলাকার স্থানীয়রা এই আয়োজনকে ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, যুবসমাজকে মাদকমুক্ত এবং সামাজিকভাবে সচেতন রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে। আগামী বছর থেকে কলার ভেলার পরিবর্তে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় যুবনেতা ও সমাজসেবক নুরুল আলম বিপ্লব বলেন, চরাঞ্চল হওয়ায় এলাকায় বিনোদনের বেশি সুযোগ নেই। তাই স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে প্রতিবছর এই ভিন্নধর্মী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে থাকে, যা গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে।
প্রধান আয়োজক মো. সুলতান তালুকদার জানান, শিশুদের আনন্দ দেওয়া এবং তাদের বিদ্যালয়মুখী রাখতে গত এক দশক ধরে এই প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিশুদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট এবং অংশগ্রহণকারী সকল প্রতিযোগীর মাঝে জার্সি বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, “শেষ ঠিকানা” নামের এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি অসহায় মানুষের দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা ছাড়াও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা করে থাকে। সংগঠনের আয়ের উৎস হিসেবে সদস্যদের দৈনিক এক টাকা সঞ্চয়ের উদ্যোগ চালু রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন