প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাভার, ২১ আগস্ট, ২০২৬ : দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্ভাবন, গবেষণা ও উদ্যোক্তা তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়া এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ইনোভেশন হাব, ইনকিউবেশন সেন্টার ও সমন্বিত স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন। তিনি জানান, শুক্রবার সাভারের ব্র্যাক সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজমেন্টে (ব্র্যাক সিডিএম) ‘উপাচার্যদের সংলাপ: উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী জাতীয় সংলাপে এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) এ আয়োজন করেছে। ড. মাহ্দী আমিন জানাচ্ছেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ ইনোভেশন ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণাগুলো সরকারি অনুদান ও অর্থায়নের মাধ্যমে সফল স্টার্টআপে পরিণত হতে পারে, এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় শিল্পাঞ্চল, হাইটেক পার্ক অথবা অর্থনৈতিক অঞ্চল থাকলেও, সেই অঞ্চলের স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে কার্যকর সংযোগ এখনও গড়ে ওঠেনি। সুতরাং, সরকার শিক্ষা, শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাঝে সমন্বিত সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তোলার জন্য কাজ করতে চায়। উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য লাইসেন্সিংসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে সরকার নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি সরকার সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংযোগ স্থাপনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। গবেষণা খাতের প্রসঙ্গে শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন জানান যে, আগামী অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে সরকারের আশাবাদ রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রবেশাধিকার, আধুনিক গবেষণাগার এবং গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদদের ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি ও ফেলোশিপের মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ তাদের লক্ষ্য ব্রেইন ড্রেইনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে রূপান্তর করা। ড. মাহ্ধী আরও বলেন, সামার স্কুল, সহজতর ক্রেডিট ট্রান্সফার ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক একাডেমিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমেও বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, নমনীয় ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে চায় তারা। তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে সফল হয়, এবং দেশে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করবে। পরে, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. মাহ্ধী আমিন বলেন যে, সংলাপে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ উচ্চশিক্ষার প্রতিবন্ধকতা ও মানোন্নয়নের করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার কীভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিচ্ছে, এটি তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান, যেখানে গ্র্যাজুয়েটরা কেবল দক্ষ পেশাজীবী হয়ে উঠবে না, বরং নীতি, আদর্শ ও সামাজিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ সুনাগরিক হিসেবেও গড়ে উঠবে। পাশাপাশি শিক্ষা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে চেষ্টা করারও প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে তারা দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে। অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক, ইউজিসি চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। দুই দিনব্যাপী এই জাতীয় সংলাপে দেশের প্রায় ৬৫টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, নীতিনির্ধারক, দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ এবং উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞগণ অংশগ্রহণ করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন