প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে রিসিভ (ক্রয় রসিদ) ছাড়া সার পরিবহনের সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কর্তৃক এক কৃষক এবং ক্ষুদ্র সার ব্যবসায়ীর ৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত সারের মধ্যে ৫ বস্তা ইউরিয়া এবং ২ বস্তা পটাশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বাগভান্ডার ক্যাম্পের (লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন-১৫ বিজিবি) সামনে সার পরিবহনের সময় এই ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনাটি শনিবার (২৯ আগস্ট) জনসমক্ষে আসে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাথরডুবি ইউনিয়নের মইদাম গ্রামের মৃত শাহেদ আলীর পুত্র মাইদুল একজন কৃষক। তিনি প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেন এবং মইদাম বাজারে সার ও কীটনাশকের ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করেন। স্থানীয়দের মতে, জমিতে সার প্রয়োগের প্রয়োজন হলেও স্থানীয়ভাবে সার না পাওয়ায়, তিনি পাশের উপজেলা নাগেশ্বরীর এক আত্মীয়ের সারের দোকান থেকে ৫ বস্তা ইউরিয়া ও ২ বস্তা পটাশ সংগ্রহ করেন। পরে ভূরুঙ্গামারীর দিকে ফেরার পথে বাগভান্ডার বিজিবি ক্যাম্পের সামনে তাকে আটক করা হয়। এ সময় সার কেনার রিসিভ দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিজিবি সদস্যরা ৭ বস্তা সার জব্দ করেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে মাইদুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তার এলাকার একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাইদুল কৃষি জমি চাষাবাদ করেন এবং মইদাম বাজারে তার সার ও কীটনাশকের ছোট দোকান রয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত। মাইদুল প্রায় ১৫ বিঘা জমি আবাদ করেছে। পাশাপাশি সে কীটনাশকের দোকান এবং ছোট পরিসরে সার বিক্রির ব্যবসাও করে। সার আটকের পর সে জমির কাগজপত্র নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তাকে সার ফেরত দেওয়া হয়নি। যেখান থেকে সার নিয়ে এসেছে, তার সঙ্গেও কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, মাইদুল তার আত্মীয়। জমিতে সার প্রয়োজন হওয়ায় স্থানীয়ভাবে সার না পেয়ে তার কাছ থেকে সার নিয়ে গেছে।”
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন-১৫ বিজিবির বাগভান্ডার ক্যাম্পের সুবেদার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিয়মিত টহলরত অবস্থায় ক্যাম্পের সামনে রোডে সার পরিবহন পথে জিজ্ঞাসাবাদে ক্রয়ের রিসিভ না থাকায় জব্দ করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
"সার (ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০০৬ এবং সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদিত এলাকা বা উপজেলার বাইরে রসিদ ও বৈধ চালান ছাড়া সার পরিবহন করা সম্পূর্ণ অবৈধ। রসিদবিহীন বা অবৈধভাবে পরিবাহিত সার 'কালোবাজারি' ও 'পাচারের মাল' হিসেবে গণ্য করে তা রাষ্ট্রীয় অনুকূলে সরাসরি বাজেয়াপ্ত (ক্রোক) এবং নিলাম করার স্পষ্ট বিধান রয়েছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন