প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরান যুদ্ধে নিহত চার সেনার নাম সাম্প্রতিককালে পেন্টাগন কর্তৃক সরকারি ‘ইরান যুদ্ধ’ হতাহত তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের জন্য একটি আলাদা নতুন বিভাগ তৈরি করা হয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে প্রশ্ন ওঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা কি সত্যিকার অর্থে প্রকাশ করা হচ্ছে কিনা। বিশেষ করে যখন ইরানের উপর হামলার বৃদ্ধি হচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার চেষ্টা চলছে, তখন ট্রাম্প প্রশাসন সেনাদের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য কতোটা স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করছে, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে অনেক মার্কিন নাগরিক এই সংঘাতের বিরুদ্ধে মতামত প্রকাশ করলেও, যুদ্ধ শেষ করার প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার খুব কম তথ্য দিচ্ছে বলে সমালোচনা সৃষ্টি হচ্ছে।
পেন্টাগনের ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম’ (ডিসিএএস) নামের অনলাইন হতাহত বিশ্লেষণ ব্যবস্থাটি এতদিন ইরান সংঘাতে নিহত ও আহত মার্কিন সেনাদের সরকারি তথ্যের প্রাথমিক উৎস হিসেবে কাজ করেছে। তবে গত সপ্তাহে চার সেনার নাম এ তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, কিছু সংখ্যক আহত সেনার তথ্যও ওই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। রবিবারের পরে পেন্টাগনের ওয়েবসাইটে ‘বিদেশি অভিযান’ নামে নতুন একটি বিভাগ যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে সেই চার নিহত সেনার নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
২০৭ জন আহত সেনার তথ্যও দেওয়া হয়েছে এই বিভাগে। তবে এই ২০৭ জনের সকলেই কি ইরানের চলমান সংঘাতে আহত হয়েছেন, তা পরিষ্কার নয়।
পেন্টাগনের মুখপাত্র জোয়েল ভালদেজ এ বিষয়ে বলেন, সেনাদের সংখ্যা কমে যাওয়া যুদ্ধের প্রাণহানি লুকানোর কোনো চেষ্টা নয়। তিনি বলেন, এটি কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা ও সাময়িক তথ্যগত বিভ্রাটের কারণে হয়েছে এবং এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে কাজ চলছে।
মঙ্গলবার পর্যন্ত পেন্টাগনের ওয়েবসাইটে ইরান যুদ্ধে ১৮ জন সেনা নিহত এবং ৪৮২ জন আহতের তথ্য ছিল। তালিকার তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে সংঘর্ষ শুরু হলে চার সেনা নিহত হন।
জর্ডানের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে তিন সেনা নিহত হন। পরবর্তী দিনে, ইরাকের আরেক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন বিস্ফোরণে এক সেনা নিহত হন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। তবে পরদিন, পেন্টাগনের অনলাইন ব্যবস্থায় এই সংখ্যা পরিবর্তিত হয়ে ১৪ জন নিহত এবং ৪২০ জন আহত হিসাবে দেখানো হয়। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাস্তবে আহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ৫০০ জনের বেশি হতে পারে।
পেন্টাগনের ‘বিদেশি অভিযান’ বিভাগে বলা হয়েছে, ৭ জুলাইয়ের পর থেকে নতুন সংঘর্ষের হতাহতের হিসাব সেখানে রাখা হচ্ছে। পেন্টাগন সংঘর্ষের বিষয়টি নিয়ে আগের তুলনায় কম তথ্য প্রদান করছে পরিষ্কার। মে মাসের শুরুর পর থেকে এটি আর কোনো নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন করেনি এবং সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সাথে হতাহতের তথ্যও শেয়ার করছে না।
তবে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, 'ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেমের' মাধ্যমে তারা স্বচ্ছতা বজায় রেখেছেন। তাদের বক্তব্য, অনলাইনে সাময়িক সমস্যার কারণে তথ্য পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু হতাহত সংখ্যা প্রকাশের বিষয়ে সরকারের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন