প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সার গুদামে হিসাবের বাইরে ৫৮ মেট্রিক টন এমওপি সার পাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। একই ঘটনার বিষয়ে চার কর্মকর্তা চার ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়ায় প্রকৃত ঘটনা নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা।
গত ৩ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (সংযুক্ত) ও কৃষি উপদেষ্টার দপ্তরের কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম ভৈরব বিএডিসি সার গুদাম আকস্মিক পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় গুদামের মজুদ ও হিসাব মিলিয়ে দেখা হলে ৫৮ মেট্রিক টন এমওপি সার অতিরিক্ত থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
এ বিষয়ে গুদামের সহকারী পরিচালক শিপন চন্দ্র সরকার বলেন, পরিদর্শনের সময় সার গণনায় ভুল হওয়ায় এমনটি হয়েছে।
গুদামের ইনচার্জ আতাউর রহমানও একই দাবি করেন। তার ভাষ্য, পরে সেই ভুল সংশোধন করা হয়েছে। তবে কীভাবে সংশোধন করা হয়েছে বা সংশোধিত হিসাব কত, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জ বিএডিসির যুগ্ম পরিচালক ইকবাল মোহাম্মদ মুনতাসির বলেন, ইনচার্জ আতাউর রহমান হজে থাকায় বিক্রি হওয়া কিছু সার সময়মতো ডিলারদের কাছে সরবরাহ করা যায়নি। ফলে সেই সার গুদামেই থেকে যায় এবং পরিদর্শনের সময় অতিরিক্ত হিসেবে ধরা পড়ে।
আবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভৈরবের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এইচ এম আজিমুল হক বলেন, গুদামে অতিরিক্ত সার ছিল। তবে গণনায় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত সার থাকার বিষয়টি সত্য।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (সংযুক্ত) ও কৃষি উপদেষ্টার দপ্তরের কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
একই ঘটনার বিষয়ে চারজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার চার ধরনের ব্যাখ্যা জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এটি কি শুধুই গণনার ভুল, নাকি গুদামের হিসাব ও সার ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম রয়েছে—এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হোক। তদন্তে কোনো গাফিলতি বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন